সময় ডেস্ক : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মো. জাহাঙ্গীর আলম শামীম (৪০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগে খিল এলাকার তালতলা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নির্জন স্থানে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার আবুল মনসুরের ছেলে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রাণভয়ে শামীম দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। এর ফলে তার পরিবার চরম অভাব-অনটনের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছিল। গত বুধবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী সীতাকুণ্ড বাজারে কিছু স্বর্ণ বন্ধক রেখে কিছু টাকা সংগ্রহ করেন এবং এরপর শামীমসহ মুরাদপুর ইউনিয়নে তার বাবার বাড়িতে (শ্বশুরবাড়ি) যান।
নিহত শামীমের ভাই মো. সেলিমের দাবি, বুধবার রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল শ্বশুরবাড়ি থেকে শামীমকে জোরপূর্বক ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তালতলা বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
নিহতের ভাই সেলিম আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় জাফর ও ইরানের সঙ্গে শামীমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তার ধারণা, পূর্বশত্রুতার জের ধরে জাফর ও ইরানের নেতৃত্বেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেষারেষিও এই খুনের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ওসি আরও বলেন, ঘাতক পক্ষ এবং যিনি নিহত হয়েছেন, উভয়েরই অপরাধমূলক রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। ধারণা করা হচ্ছে, এলাকা দখল বা পুরোনো কোনো হিসাব নিকাশ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের পর মুরাদপুর ও শিবপুর এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত হোতাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং খুনিদের শনাক্ত করতে সব ধরনের কারিগরি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment