সময় ডেস্ক : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শামীম (৫২) নামের এক কথিত পীরের দরবারে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় লোকজন। এসময় হামলা ও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন শামীম।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় অবস্থিত তার দরবারে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় শামীমের আরো দুই অনুসারী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত শামীম ফিলিপনগর এলাকার সামসুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি কথিত পীর তার দরবারে অনুসারীদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআন নিয়ে বেশকিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরে শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফিলিপনগরে অবস্থিত দরবার ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারী এলোপাতাড়ি পিটুনির শিকার হন।
বিকাল তিনটার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমসহ তিন জনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত বাকি দু'জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ দরবার এলাকা ঘিরে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

No comments:
Post a Comment