নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে গাড়ি পার্কিংয়ের ইজারা নিয়ে একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইজারাদারের প্রতিনিধিরা। অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন- সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম-নীতি মেনে এবং সরকারের কোষাগারে অগ্রিম রাজস্ব প্রদান করেই এই ইজারা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের হল রুমে আয়োজিত সংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় ইজারাদারের পক্ষে এসব কথা বলেন সুহেল রানা।
এসময় সুহেল রানা বলেন, 'একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে যে, আমরা জোরপূর্বক রেলস্টেশন পার্কিং দখলের চেষ্টা করছি। প্রকৃত সত্য হলো- আমরা সরকারকে নিয়মানুসারে সম্পূর্ণ রাজস্ব দিয়ে ইজারা নিয়ে এসেছি। এই বৈধ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চলমান অপপ্রচারে কাউকেই বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।”
ইজারার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি শাখা থেকে গত ১০/১২/২০২৫ ইং তারিখে (স্মারক নং-৫৪.০১.০০০০.১২.১৩.০৭০.১৮-৬৭৭) কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. মিনারুল ইসলাম সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পার্কিংয়ের সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে ইজারা পান।
পরবর্তীতে মিনারুল ইসলাম শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (ঢাকা) বরাবর লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তার ব্যবসায়িক পার্টনার ও প্রতিনিধি হিসেবে দক্ষিণ সুরমার মো. নাহিদুর রহমান, মো. সুহেল রানা এবং মো. শাহীন আহমদকে পার্কিং স্থানটি বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে গত ১৫/০৬/২০২৬ ইং তারিখে সিলেট জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে যে, উক্ত প্রতিনিধিগণই ইজারাদারের পক্ষে পার্কিং এলাকাটি পরিচালনা করবেন।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দৈনিক কালবেলা ও ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে এই ইজারা সম্পন্ন হয়।
সিলেট রেলস্টেশন গাড়ি পার্কিংয়ের বিপরীতে সরকারি নির্ধারিত দর ছিল ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মো. মিনারুল ইসলাম ৪,৭৫,০০০/- (চার লক্ষ পঁচাত্তর হাজার) টাকা (যা সরকারি দরের চেয়ে ২৫,০০০ টাকা বেশি) এবং নিয়মমাফিক ভ্যাট-আয়কর প্রদান করে ০১ (এক) বছর মেয়াদী এই লাইসেন্স লাভ করেন।
ইজারাদার পক্ষ জানান, সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়ে এবং জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই তারা দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। ফলে এখানে কোনো ধরনের জোরপূর্বক দখলের সুযোগ নেই। তারা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাহিদুর রহমান, শাহিন আহমদ সহ ইজারাদারবৃন্দ।

No comments:
Post a Comment