সময় ডেস্ক : : এক দশক আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানের জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে শুনানির পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক। গত ২ আগস্ট হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন হাইকোর্ট। এই আদেশের পর গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তার কারামুক্তির খবর আসে গণমাধ্যমে।
এরপর বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করে রাষ্ট্রপক্ষ, যা চেম্বার আদালতের সম্পূরক কার্যতালিকায় ওঠে। আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজেই শুনানি করেন।
আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় চেম্বার বিচারপতির বিশেষ অনুমতি নিয়ে মামলাটি (জামিন স্থগিতের আবেদন) মুভ (পরিচালনা) করেছি।
যেহেতু করেছি সুতরাং আরো ফরমালিটিজি (আনুষ্ঠানিকতা) এবং সমস্ত কিছুর জন্য ও পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন আদালত। ফলে এই জামিন স্থগিতের আদেশটি আগামী রোববার পর্যন্ত বলা যায়। আশা করি রোববারে পরবর্তী আদেশ হবে।,
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাফিজুর রহমানকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে যেন গ্রেপ্তার করা হয়।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু ২০১৬ সালের ২০ মার্চ নিখোঁজ হন।
ওইদিন কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় তিনি টিউশনি করতে গিয়েছিলেন। বাসায় না ফেরায় খোঁজাখুজির পর ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে একটি ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২১ মার্চ তনুর বাবা ইয়ার হোসেন (কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহকারী) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ধর্ষণ বা হত্যার স্পষ্ট আলামত না পাওয়ার কথা বলা হলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে আদালতের নির্দেশে লাশ তুলে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়। পরবর্তীতে সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যা তনুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার প্রমাণ দেয়।
তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান।
গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২২ এপ্রিল কুমিল্লা আদালতে হাজির করার আগে ওই দিন সকালে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

No comments:
Post a Comment