নিজস্ব প্রতিবেদক : : সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জামাতাকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে খুন হন শ্বশুর নূর ইসলাম (৫৫)। ঘাতক শাহীন (২৫) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর ইসলামের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তি দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার কুমিল্লা পট্রির মেস্তরি মিয়ার পুত্র।
দক্ষিণ সুরমার আলোচিত মাদক মাদক স্পট কুমিল্লা পট্রি। সেখানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনকারীদের উপস্থিতিতে সব সময় সরগরম থাকে নদীর পাড়। প্রায় সময় অপরাধীদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়ানো ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভার্থখলা এলাকাবাসী ও পুলিশের তৎপরতায় মাদক কেনাবেচা প্রকাশ্যে কিছুটা বন্ধ কম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়াবা কেনাবেচার পাঁচশত টাকার দ্বন্দ্বের জেরে কয়েক দিন আগে নূর ইসলামের জামাতা জুয়েলকে মারধর করেন অভিযুক্ত যুবক শাহীন।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে ভার্থখলা এলাকায় শাহীনের দেখা পান নূর ইসলাম। এসময় তিনি জামাতাকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে শাহীন ও তাঁর সহযোগীরা নূর ইসলামের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। সংঘর্ষের সময় শাহীন নূর ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত নূর ইসলামকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অভিযুক্ত শাহীন দক্ষিণ সুরমার মারকাজ পয়েন্ট সংলগ্ন সাধুরবাজার এলাকার একটি কলোনির বাসিন্দা এবং তাঁর পৈত্রিক বাড়ি কক্সবাজারের মাঝিরঘাটে বলে জানা যায়। সে কিছুদিন বাবনা এলাকার শামীম হোটেলে বয় হিসেবে কাজ করে।
খুনের বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুজ্জামান, ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মফিজুল ইসলাম, সহকারী ইনচার্জ কামরুজ্জামন সহ পুলিশের ইনভেস্টিগেশন টিম।
এসআই মো. মফিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। খুনিকে শনাক্ত করে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান দিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালাবাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত শাহীনকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়া হয়। সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পূর্বে একজনকে আটক করার কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে পরিবারের কাছে লাশ হাসপাতাল থেকে হস্তান্তর করা হবে।


No comments:
Post a Comment