আলোচিত ট্রিপল মার্ডার, মামলা পিবিআই’র কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Saturday, 12 September 2026

আলোচিত ট্রিপল মার্ডার, মামলা পিবিআই’র কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ


সময় ডেস্ক : :
সিলেট মহানগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এ হস্তান্তরের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করেনি এসএমপি।


সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান- (শনিবার) অর্ডার হয়েছে। তবে এখনো পিবিআই তদন্ত অফিসার নিয়োগ দিয়ে মামলা বুঝে নেয়নি। কালনাগাদ নিতে পারে।


এসএমপি’র তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন- আমরা আসামিকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করেছি। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। এছাড়া জব্দকৃত আলমত ফরেনসিকের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিকের রিপোর্ট এসে গেলে তদন্তের আর খুব বেশি অবশিষ্ট থাকবে না। 


গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১নং এর নিজ বাসায় খুন হন আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এম এ সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের দিন পুলিশ বাবুল মিয়া নামে এক রংমিস্ত্রীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।


হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর (১৭ আগস্ট) নিজেদের বাসায় প্রথম সংবাদ সম্মেলন করে নিহত দম্পতির প্রবাসী ছেলে-মেয়েরা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছিলেন তারা।


এরপর ২ সেপ্টেম্বর সন্তানারা ফের সংবাদ সম্মেলন করেন। দ্বিতীয়বার সংবাদ সম্মেলনেও তারা মা-বাবা ও গৃহকর্মী খুনের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছেন। আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু তাদের বক্তব্যে সেদিন বলেন- আমাদের দাবি একটাই, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার। আমরা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি তুলে ধরেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন- সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের। পাশাপাশি তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। 


আমরা এখন আশাবাদি, সঠিক বিচার পাবো। আমরা সিলেটের সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই, এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য। সিলেটবাসী আমাদের পরিবারের প্রতি যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা দিয়ে ন্যায় বিচারের জন্য সোচ্চার হয়েছেন, সেজন্য জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। এছাড়া সিলেটের সকল মন্ত্রী-এমপির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।


সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাত্তার-সুরাইয়ার মেয়েরা বলেন- আমরা এজাহারে নির্দিষ্ট করে কারও প্রতি অভিযোগ তুলিনি। আমরা শুধু পুলিশের নজরে নিয়ে এসেছি যে, আমাদের বাবার জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে একজন আইনজীবির সঙ্গে। এখন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে তিনি জড়িত আছেন কি না সেটি বের করার দায়িত্ব পুলিশের।


বক্তব্যে তারা আরো বলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও যদি সুষ্ঠু বিচার না পাই তবে আমরা পরবর্তীতে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে সিলেটবাসীকে সিদ্ধান্ত জানাবো।


এর আগে ১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সিলেট সফরকালে সার্কিট হাউসে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনা হয়। পরে তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের কাছে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান এবং মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে আইজিপি ও এসএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পরই মামলাটি পিবিআই-তে হস্তান্তরের আদেশ দেওয়া হলো।


No comments:

Post a Comment

Pages