সময় ডেস্ক : : সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে দুই বাসের মুখামুখি সংঘর্ষে আটজন এবং বগুড়ায় বাসচাপায় সাতজন নিহত হন। দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকার বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে দুর্ঘটনা সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন গাইবান্ধার আমিরুল ইসলাম (৫০), নূর আলম (৫০), আবদুস ছামাদ ও বেলাল; জয়পুরহাটের তাজমুল ও ফয়জার।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী গণমাধ্যমকে বলেন, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই শ্রমজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এ সময় কাজের সন্ধানে সেখানে অপেক্ষা করা শ্রমিকদের চাপা দেয় বাসটি। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকেরা আরো চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।
শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে ওসমানীনগর থানার কাশিকাপন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন বছর বয়সী শিশু ফাইজা এবং তিতন নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যান আরো সাতজন।
ঘটনাস্থলে নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন কিশোরগঞ্জের ঢুলিয়ারপাড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাজী শফিক উদ্দিনের ছেলে হাজী মঈনুল ইসলাম (৫৫) এবং সিলেট নগরের সোবহানিঘাট এলাকার বাসিন্দা প্রীতম দাশ (২২)।
দুর্ঘটনায় আহত ফারুক মিয়া (৫২) নামের একজন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে। ফারুক জানান, তাঁরা পাঁচ বন্ধু হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন উড়োজাহাজে করে ঢাকায় ফিরে যান। ফারুকসহ অপর তিনজন ইউনিক পরিবহনের বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন।
ফারুক বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি বাসে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় তাঁর বন্ধু সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার ছিলেন।
হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের প্রবণতার কারণে ওসমানীনগরে এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়।


No comments:
Post a Comment