বাসর রাতে বরের মৃত্যু, বিয়েবাড়ি শোকের ছায়া - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Friday, 2 May 2025

বাসর রাতে বরের মৃত্যু, বিয়েবাড়ি শোকের ছায়া


সময় ডেস্ক :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ফুলশয্যার রাতেই স্বামীর মৃত্যু, বাকরুদ্ধ পড়েন নববধূ লাভনী আক্তার (২০)।


ফুলশয্যা রাতেই বরের মৃত্যুর বিষয়টি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নববধূ। ভাগ্যের নিমর্ম পরিহাস শেষ পর্যন্ত বাকরুদ্ধ হয়ে ফুলশয্যা রাতেই বরে মরদেহের পাশে বসে অপলক দৃষ্টিতে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে নববধূ তার জীবনের স্বরনীয় রাতটি কাটিয়ে দেন। 


শুক্রবার (২ মে) বিকালে মেহেদী মাখা হাত, পড়নে লাল শাড়ি ও অশ্রু ভেজা চোখের অপলক দৃষ্টিতে শেষ বারের মতো মৃত বর (স্বামী)কে বিদায় জানালেন নববধূ লাভনী আক্তার।


জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ মে) দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কবিরমামুদ গ্রামের শাহ জামালের মেয়ে লাভলী আক্তার (২০) এর সাথে একই উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের আছিয়ার বাজার এলাকার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে খালেকুজ্জামান ডিউট এর সাথে বিয়ে হয়। 


বিয়ে অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার সারাদিন দুই পরিবারের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে আপ্যায়নসহ নানা আনন্দ ও উৎসব চলছিল। বরের বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব এবং পাড়া-প্রতিবেশিদের খাওয়া-দাওয়া শেষে আত্মীয়স্বজনরাও অনেকেই বিদায় নেন।


বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে নববধূ মেহেদী মাখা হাত, পড়নে লাল শাড়ি পড়িয়ে বাসর (ফুলশয্যা) রাতে বিছানায় বসে বরের জন্য অপেক্ষা করছিল। রব খালেকুজ্জামান ডিউট বাড়িতে আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে কথা শেষে রাত ১২ টার দিকে বাসর ঘরে প্রবেশ করে নববধূর কাছে এক গ্লাস পানি চান এবং পানি চাওয়া মুহূর্তে চিৎকার দিয়ে মেজোতে পড়ে যান। 


পরে নববধূর আত্মচিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে বর ডিউটকে ডাকা ডাকি করেও কোন সাড়াশব্দ নেই। পরে বাড়ীর লোকজন নিশ্চিত হন হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে।


শুক্রবার বিকাল ৩ টায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।


নববধুর চাচা সাবেক ইউপি সদস্য শাহ আলম জানান, জামাই খালেকুজ্জামান ডিউট প্রায় ১৮ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেছেন। তার পূর্বের স্ত্রী জান্নাতি আক্তার মুক্তা। তার ঘরে ১ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ হওয়ায় বৃহস্পতিবার আমার ভাতিজির সাথে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কে জানতো বিয়ের রাতেই আমার জামাইয়ের মৃত্যু হবে। অল্প বয়সে আমার ভাতিজি বিধবা হলেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। সবই নিয়তির খেলা।


শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম মিয়া শোহেল জানান, প্রধান শিক্ষক খালেকুজ্জামান ডিউট এর মৃত্যু ওপরে কারো হাত নেই। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা খুবই কম দেখা যায়। বাসর রাতেই স্ত্রী বিধবা ! খুবই কষ্টদায়ক ঘটনা।


No comments:

Post a Comment

Pages