জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক : দেশের প্রথম আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চাঁদরাতে যাত্রীশূন্য হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে চাঁদরাতের পূর্বে গত চার পাঁচদিনে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাওয়ায় যাত্রী সংকট দেখা দেয়।
সিলেটে পরিবহন খাতে বিগত বছরের চেয়ে এই বছর পরিবহন মালিকদের মধ্যে স্থিরতা দেখা দিলেও চাঁদরাতে আশানুরূপ যাত্রী না পাওয়ায় প্রায় বাস সিট খালি নিয়ে যাত্রা করছে।
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসের ভাড়া অপরিবর্তিত হারে রাখা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর মত যাত্রা পথে নেই দুর্ভোগ কিংবা দূর্ভোগ ও ভোগান্তি।
অন্যান্য বছরগুলোতে দুই ঈদকে সামনে রেখে কিছু অসাধু পরিবহন ব্যবসায়ী জ্বালানী তেল সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধিসহ নানা খুড়া অজুহাত দেখিয়ে বাসের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতেন। এবছর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ঈদ উল ফিতরে যাত্রী সংকট হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে সিলেটের পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত বাস ভাড়ায় ঈদ পালন করতে বাড়ি ফেরাদের কাছে টিকেট বিক্রি করতে নির্দেশ দেন। বাস কাউন্টার নির্দেশমত টিকেট বিক্রি করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস ভর্তি না হওয়ায় অনেক কাউন্টার ডিসকাউন্ট দিয়েও যাত্রী পাচ্ছেনা।
পরিবহন ব্যবসায়ী মালিক সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাগামী বাস হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, এস আর, মামুন পরিবহন, গ্রিন লাইন, আল মোবারক পরিবহনসহ অন্যান্য বাস যাত্রী প্রতি ৬'শত টাকা ও এনা পরিবহনে ৬'শত ৭০ টাকায় টিকেট বিক্রি করে। এছাড়া চট্টগ্রামগামী বাস আগের নিয়মিত ভাড়ার ন্যায় ১হাজার টাকা রাখা হচ্ছে। এদিকে উত্তরবঙ্গ রংপুর, দিনাজপুর, যশোর বেনাপোলগামী বাস ভাড়া ১৮'শত থেকে ২'শত টাকা কমিয়ে ২৬'শত টাকা রাখা হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গ বরিশাল, বগুড়াগামী বাসে পূর্বের নির্ধারিত ১৬'শত টাকা টিকেট প্রতি ভাড়া রাখা হচ্ছে।
টার্মিনাল সূত্র আরো জানায়, ঈদে যাত্রীর চাপ বিগত বছরগুলোর মত অত্যাদিক হবে; এমনটি মনে করে অনেক বাস মালিক দূরপাল্লার নতুন বাস কিনে প্রস্তুত রেখেছিলেন। ওইসব বাস রংপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লা ও ফেনী রোড়ে চলাচল করার কথা ছিলো।কিন্তু এবছরই প্রথম যাত্রী সংকট দেখা দেয়ায় তাদের বিরাট লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রাত সোয়া ১২টায় কথা হয় দিনাজপুরগামী যাত্রী দোকান কর্মচারী রবিউলের সাথে। তিনি বলেন- চারদিন আগে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ছুটি পাওয়ায় আজ তিনি গ্রামের বাড়ি পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ করতে যাত্রা করছেন। যাত্রীদের চাপ কম দেখে তিনি স্বস্তিতে আছেন বলে জানান।
এই বিষয়ে সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঝুনু আহদম জানান, সিলেটে যাত্রী সেবার মান বেড়েছে। তুলনামূলক এবছর যাত্রী কম রয়েছে। তাদের সেবা প্রদানে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

No comments:
Post a Comment