সময় ডেস্ক : : সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৯নং ওয়ার্ডে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিতরণে ডিলারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অসদাচরণ ও উপকারভোগীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী উপকারভোগীরা। এ ব্যাপারে টিসিবির কার্ডধারীদের পক্ষ থেকে গত ১০ আগষ্ট সিসিক প্রশাসক এবং গত ১৭ আগষ্ট জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ১৯নং ওয়ার্ডে টিসিবির পণ্য বিতরণের জন্য জাকির স্টোর, মা স্টোর ও মুরাদ স্টোর নামে তিনটি ডিলার ছিল। এর মধ্যে অনিয়মের অভিযোগে জাকির স্টোরের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে মা স্টোর ও মুরাদ স্টোরের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপকারভোগীদের অভিযোগ, পণ্য নিতে গেলে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের ওজনে কম দেওয়া হয়। এছাড়া মোবাইল ফোনে টিসিবি পণ্য বিতরণের তারিখ জানতে চাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদর্শন, উপকারভোগীদের কার্ড হাতে নিয়ে পণ্য ও কার্ড ফেরত না দেওয়া এবং কার্ডের ছবি তুলে রাখার মতো অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে টিসিবির পণ্য না পাওয়ায় অনেক উপকারভোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না পেয়ে ফিরে যান। ডিলারদের নিজস্ব দোকানে নিয়মিত পণ্য বিতরণ না করে এক-দুই দিন অস্থায়ীভাবে পণ্য বিতরণ করার অভিযোগও রয়েছে। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুপুর ২টার দিকে পণ্য নিয়ে এসে বিতরণ করে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা।
এ ঘটনায় ১৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে টিসিবির পণ্য বিতরণে উপকারভোগীদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি ১৯নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি ডিলারদের সঠিক নির্দেশনা মেনে উপকারভোগীদের পণ্য প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এরপরও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
তাদের প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং টিসিবির সুবিধাভোগীরা নিয়ম মেনে স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি ভর্তুকির পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।


No comments:
Post a Comment