জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : সিলেটে শ্বাশুর বাড়িতে হারপিক খেয়ে আত্মহননের চেষ্টায় বেঁচে যাওয়া আলমগীর হোসেন (২৮) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহনন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৮টায় হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আলমগীর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের মিরপুরের রতিয়ার পাড়া গ্রামের খোয়াজ আলীর ছেলে।
আলমগীরের বড়ভাই ছাতক বুরাইয়া মসজিদের ইমাম হাফেজ শাহ আলম জানান, তার ছোটভাই গত ৮ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাকে বিভিন্ন সময় চিকিৎসা দেয়া হয়। মাঝেমধ্যে আলমগীর স্বাভাবিক আচরণ করতেন ও কৃষিকাজ সহ এলাকায় নানা কাজ করতেন। গত বছর তিনি নিজ উপজেলার রসূলগঞ্জের পাথারিয়া দারারপাড় গ্রামের পপি আক্তারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পপি বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
আলমগীরের ছোট শ্যালক শ্যালক নূর আলী বলেন, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১২টায় তাদের বাড়ির টয়লেটে রাখা হারপিক তার দুলাভাই খেলে তারা তাকে দ্রুত জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে ওইদিন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
নূর আলী আরো বলেন, রোগী অশান্তি করায় সারারাত জেগে ছিলাম। সকালে আমাদের অগোচরে তিনি ওয়ার্ড থেকে বেড় হয়ে যান। আমার ভাই ষষ্ঠ তলায় তাকে খোঁজতে জান, আমি সিঁড়ি নিচে তাকিয়ে দেখি নিচে একজন পড়ে আছে। দ্রুত নেমে রক্তাক্ত অবস্থায় দুলাভাইকে শনাক্ত করি। লাশের পোস্টমর্টেম শেষ হলে শহরে গোসল দিয়ে দাফনের জন্য বাড়ি যাবেন বলে জানা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আলমগীর হোসেনের একরোগী হারপিক খেয়ে নতুন ভবনের পঞ্চম তলার ৩৩নং ওয়ার্ডে ৪টা ৪০ মিনিটে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে লাফিয়ে পরে তার মৃত্যু হয়।
ওসমানী হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আলমগীর নামের এক রোগী হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের ৫তলার ৩৩ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে সিঁড়ির পাশের ফাঁকা অংশ দিয়ে তিনি লাফ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ বদরুল আমিন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নতুন ভবনটা আউটডোর চিকিৎসার জন্য উন্মুখ ছিল। পরে রোগীর চাপ বাড়ায় ওয়ার্ডে চিকিৎসার কার্যক্রম বর্ধিত করা হয়। গতকালে দুর্ঘটনায় সিঁড়ির ফাঁকা অংশ নিয়ে তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। পরবর্তীতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



No comments:
Post a Comment