সময় ডেস্ক : : ফিলিস্তিনের গাজার নুসেইরাত এলাকায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) একটি জানাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে অন্তত ৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ব্যক্তির জন্য জানাজাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ওই দিনই একই এলাকায় ভিন্ন একটি ইসরায়েলি হামলায় সে ব্যাক্তি নিহত হন।
এ ছাড়া গাজার অন্যান্য এলাকায় পৃথক ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও অন্তত ৩ জন নিহত হন। ফলে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সারাদিনে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১২ জনে পৌঁছেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নুসেইরাতের হামলাকে শোকাহত মানুষের ওপর চালানো একটি নৃশংস গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হামাস। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং জাতিসংঘের প্রতি গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর একটি সেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে হামলায় অসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে লাউডস্পিকারে ঘোষণা দেয়। এতে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১,১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যদিও যুদ্ধবিরতির ফলে বড় ধরনের সংঘর্ষ বন্ধ হয়েছে, তবুও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ACLED জানিয়েছে, গাজায় জুন মাসে ৪০টিরও বেশি ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায়ও হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংস্থা এবং কয়েকজন বিশ্বনেতা এই অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

No comments:
Post a Comment