নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে যাত্রীবাহী বাস বৈদ্যুতিক খুঁটিকে ধাক্কা দিলে খুঁটি ভেঙে পড়ে ও বাস দুমড়ে মুচড়ে যায়। তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ বন্ধ করার ফলে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা মিলে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেয়ার নিয়ম থাকলেও সকালে রফাদফায় ছেঁড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোররাত সাড়ে তিনটায় শামীম হোটেলের সামনে বাসটি ব্রেক ফেল করে দুর্ঘটনায় পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সিলেট টু ময়মনসিংহ রোডে চলাচলকারী যাত্রীবোঝাই জালালাবাদ বাসটি দ্রুত গতিতে বৈদ্যুতিক খুঁটিকে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দিলে খুঁটি ভেঙে পড়ে ও বাস দুমড়ে মুচড়ে যায়। তাৎক্ষণিক ট্রহলে থাকা দক্ষিণ সুরমা থানার এএসআই আসাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয় ও বাসটি পুলিশের নজরদারীতে রাখা হয়। কয়েকজন আহত হলেও পুলিশ বলছে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সকালে এএসআই কানু মালাকারসহ একদল পুলিশ সদস্য দুর্ঘটনাস্থলে গেলে এএসআই আসাদুল ইসলাম বাদে রাতের সদস্যরা চলে যান। পরে সেখানে ছুটে যান দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুজ্জামান।
পরে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি রেকার দিয়ে টেনে পুলিশের হেফাজতে নেয়ার নিয়ম থাকলেও অভিযোগ আছে রফাদফা করে বাসটি মালিক পক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে নামলে লেনদেনের কথোপকথনের একটি রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে আসে। সেখানে বিদ্যুতের নতুন খুঁটি পুনরায় স্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ অফিসকে ৭০ হাজার টাকা, আইনি ঝামেলা এড়াতে থানা পুলিশকে ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রাফিকের রেকার-৩ এর মালিক অনিক নেয় বিল বাবদ ১৫ হাজার টাকাসহ ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা রফাদফার কথা শোনা যায়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওসি আশরাফুজ্জামানের নির্দেশনায় রফাদফা সম্পন্ন হয়। বাবনা এলাকার একটি হোটেলে বিয়ের দাওয়াতের মত খাবার খাওয়া হয়। এক পর্যায় বাস কর্তৃপক্ষের লোকজন ও পুলিশের মধ্যে প্রকাশ্যে কুলা কুলি হওয়ার বিষয়টিও অনেকে প্রত্যক্ষ করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে, সরজমিন বিকেলে ক্বিনব্রিজ সংলগ্ন মৌবন মার্কেটের পাসে মালিক পক্ষের লোকজনের উপস্থিতে বাসটি মেরামতের কাজ করতে দেখা যায়। পরে সেখান থেকে যদিও বাসটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। আর অল্প সময়ে বিদ্যুতের ১১ কেভি লাইনের ভাঙা খুঁটির অংশ উপরে ফেলে পুনরায় নতুন খুঁটি সেখানে স্থাপন করে লাইনে বিদ্যুৎ চালু করা হয়।
সিলেট বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী তানভীর রাজ্জাকের বক্তব্য নিতে কয়েকবার চেষ্টা করেও ফোনে তাকে পাওয়া যায় নি।
বাসটি আটক না করে ছেঁড়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আশরাফুজ্জামান প্রথমে ট্রাফিকপুলিশের হেফাজতে বাসটি রয়েছে ও তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানান। ট্রাফিকে খোঁজখবর নিলে তারা থানা পুলিশের নির্দেশে ক্বিনব্রিজের পাশে বাসটি রেখে যাওয়ার কথা জানায়।
পুনরায় ওসিকে কল দিয়ে বিষয়টি জানালে ও কোনো লেনদেন হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি এএসআই আসাদুল ইসলাম ঘুম থেকে উঠলে তার সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান। দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকলেও তিনি আর কিছু জানান নি।
এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী (পিপিএম) বলেন- যদি প্রমাণ মেলে অনৈতিক লেনদেনে বাস ছেড়ে দেয়া হয়েছে তবে সেইসব পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।



No comments:
Post a Comment