সময় ডেস্ক : সরকারি কর্মকর্তা দেবব্রত মোহান্তি দীর্ঘ দিন ধরে খনিজসম্পদ বিভাগে সেবা দিয়ে আসছিলেন। লম্বা চাকরির ক্যারিয়ারে তার অভিজ্ঞতার ঝুলি যা না সমৃদ্ধ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ফুলে ফেঁপে বড় হয়েছে বাড়ির আলমারি। ঘুস ও কমিশন বাণিজ্য এবং অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়েছেন বিপুল অর্থ। বস্তায় বস্তায় টাকা দিয়ে ভরেছেন সিন্দুক।
এছাড়া তার বাসার ট্রলি ব্যাগ, বিছানার নিচ ও অফিসের ড্রয়ারেও রাখেন কাড়ি কাড়ি টাকা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। অবশেষে তার ঠাঁই হয়েছে কারাগারে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা মোহান্তি কয়লা খনিতে চাকরির আড়ালে ছিলেন চরম ঘুসখোড়। তিনি দুর্নীতিতে আকণ্ঠ ডুবে গিয়েছিলেন।
এমন বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে ধরার জন্য ফাঁদ পাতা হয়। এতে তিনি ধরাও পড়েন। ঘটনাটি ভারতের উড়িষার রাজ্যের ভুবনেশ্বরের।
রাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ভিজিল্যান্স দপ্তরে মোহান্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ যায়। তিনি কটক সার্কলের খনি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর। সেই সূত্র ধরে তার সঙ্গে কয়লা ব্যবসায়ী হিসেবে যোগাযোগ করেন এক কর্মকর্তা।
তদন্তকারী কর্মকর্তার সূত্র জানায়, ওই ব্যবসায়ীকে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেন মোহান্তি। সে সময় তাকে ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়।
খনিকর্তাকে গ্রেফতারের পর তার তিনটি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযানে নামে ভিজিল্যান্স। মোহান্তির ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাট, ভদ্রকে তার পৈতৃক বাড়ি এবং কটকে তার চেম্বারে তল্লাশি অভিযান চলে।
তদন্তকারীরা জানান, ভুবনেশ্বরে মোহান্তির ফ্ল্যাটে তল্লাশির সময় একটি ট্রলিব্যাগ এবং আলমারির ভেতর থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৪ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে আরো টাকা লুকনো থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও ১৩০ গ্রাম স্বর্ণও উদ্ধার হয়েছে।
ভারতের ভিজিল্যান্স বা সতর্কতা দফতর মূলত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিরোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং অসদাচরণ তদারকির কাজ করে। তারা অনিয়ম, ঘুষ, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়।

No comments:
Post a Comment