সময় ডেস্ক : রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া দেশের শিল্পীদের ভূমিকা ও পরিণতি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানিয়েছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতা।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণে বহু শিল্পী মানুষের ভালোবাসা ও সম্মানের পরিবর্তে গালি ও অবজ্ঞার শিকার হয়েছেন। একসময় যাদের জন্য দর্শক হাততালি দিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদেরই এখন কটূক্তি শুনতে হচ্ছে।
সম্প্রতি এক আলোচনা অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ববিতা বলেন, শিল্পীরা যখন রাজনীতিতে যুক্ত হন, তখন তারা আর শুধুমাত্র শিল্পী হিসেবে বিবেচিত হন না। বরং দলীয় রাজনীতির অংশ হিসেবে মূল্যায়িত হন। এর ফলে তাদের ব্যক্তিগত মতামত, কাজ এবং অবদানও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হয়, যা শিল্পী সমাজের জন্য দুঃখজনক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো সহনশীল হয়ে ওঠেনি। রাজনীতিতে অবস্থান নেওয়ার পর শিল্পীদের জনপ্রিয়তা দলীয় সমর্থন ও বিরোধিতার মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলেই একসময়কার দর্শকপ্রিয় শিল্পীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্যে নানা কটূক্তির শিকার হন।
ববিতা আরো বলেন, রাজনীতিতে যাওয়া একজন নাগরিক হিসেবে কারও অধিকার হতে পারে। কিন্তু আমাদের বাস্তবতায় রাজনীতি এতটাই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে যে, শিল্পীদের জন্য সেটি আত্মসম্মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। অনেক শিল্পী হয়তো মানুষের কল্যাণে কাজ করার ইচ্ছা থেকেই রাজনীতিতে আসেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা দলীয় স্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত হন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শিল্পীরা সমাজের সাংস্কৃতিক ও মানবিক চেতনার প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু রাজনীতির কঠোর বাস্তবতায় সেই মানবিক জায়গাটা গুরুত্ব পায় না। বরং শিল্পীদের অতীত কাজ, বক্তব্য ও ব্যক্তিগত জীবন রাজনৈতিক বিতর্কের উপাদান হয়ে ওঠে।
বরেণ্য এই অভিনেত্রীর মতে, শিল্পী সমাজের উচিত রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে নিজেদের অবস্থান ও সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবা। তিনি বলেন, দর্শকের ভালোবাসা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। রাজনীতির কারণে যদি সেই ভালোবাসা হারিয়ে যায়, তাহলে সেটি অপূরণীয় ক্ষতি।
ববিতা মনে করেন, রাজনীতি ও সংস্কৃতির মধ্যে সুস্থ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। নচেৎ শিল্পী ও সাধারণ মানুষের সম্পর্ক ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে, যা দেশের সংস্কৃতির জন্যও শুভ নয়।

No comments:
Post a Comment