সময় ডেস্ক : সম্প্রতি পটুয়াখালীর বাউফলে এক হিন্দু কলেজ ছাত্রীকে বন্দুক ঠেকিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযোগকারী মায়ের বক্তব্যের সঙ্গে তার কন্যার দেওয়া তথ্যের কোনো মিল নেই।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এক হিন্দু নারীকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তার মেয়ে ফুচকা খেতে বের হলে স্থানীয় ইউনিয়ন সেক্রেটারি ধলু মোল্লা ও তার নাতি শোহান মোল্লা পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হিন্দু হওয়ার কারণে থানা বা সেনাবাহিনী কেউ তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে "হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ করেছে বিএনপি নেতা" শীর্ষক দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি যাচাই করতে গিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ‘Bauphal Today’ নামক একটি ফেসবুক পেজে ভুক্তভোগী ওই তরুণী মনীষার একটি ভিডিও বার্তা পাওয়া যায়। সেখানে মনীষা বলেন, “আমি শোহানের সাথে নিজের ইচ্ছায় চলে আসছি। আমি আর বাসায় যাব না। আমার বাবা-মা যা বলছে সব মিথ্যা। আমি নিজের ইচ্ছায় ওর সাথে থাকতে চাই ও সংসার করতে চাই।”
মনীষা আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা-মা এই ঘটনাকে ভিন্নভাবে প্রচার করে তার মান-ইজ্জত নষ্ট করছেন। তিনি পরিবারের সাথে যেতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান।
অভিযুক্ত শোহান মোল্লা নিজেও গত ৯ ফেব্রুয়ারি মনীষাকে পাশে নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে মনীষা সরাসরি জানান, তিনি ভালোবেসে নিজের ইচ্ছায় শোহানের কাছে এসেছেন এবং তাকে কেউ জোর করেনি।
এছাড়া ‘Bauphal Face’ নামক অপর একটি পেজে ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে মনীষাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার স্বজনরা হাত ধরে টানাটানি করছেন। সে সময় মনীষা চিৎকার করে তার হাত ছাড়িয়ে নেন এবং পরিবারের সাথে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “আমি যামু না আমি কইছি।”
অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয় যে, পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলা হলেও সংশ্লিষ্ট তরুণী স্বেচ্ছায় শোহান মোল্লার কাছে গিয়েছেন বলে বারংবার দাবি করছেন। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “বন্দুক ঠেকিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণ”-এর দাবিটি তথ্যগতভাবে সত্য নয় বলে সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রমাণগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছে। বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র : The Dissent ও জনকণ্ঠ


No comments:
Post a Comment