জুলাই সনদ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন : প্রধান উপদেষ্টা - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Monday, 16 February 2026

জুলাই সনদ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন : প্রধান উপদেষ্টা


সময় ডেস্ক :
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ছোট-বড়, ভালো-মন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না। এই সনদ রচনা এবং গণভোটে পাস করানোর জন্য আমি সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, অধিকার রক্ষা প্রতিষ্ঠান যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের সবাইকে আজ অভিনন্দন জানাচ্ছি।’


সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার ভাষণটি সম্প্রচার করে।


তিনি আরো বলেন, ‘এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন একজন ভোটার গর্ব ভরে এই নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে তখন একজন নাগরিক হিসেবে আমি আনন্দ ধরে রাখতে পারি না। আমি আশা করি, এই প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে আরো অনেক বেশি প্রবাসীরা নিশ্চিন্তে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। ব্যাংকিংব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, অর্থপাচার ছিল লাগামহীন। আমরা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, করনীতি, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতে কাঠামোগত সংস্কার এনেছি।’


তিনি বলেন, ‘তলাবিহীন অর্থনীতি আমাদের জন্য রেখে গেছিল আগের ফ্যাসিবাদী সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংককে ফতুর করে দিয়ে গেছে। ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করে নিয়ে গেছে। বিশাল ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এসব আমাদের জানা কথা। আমরা যারা এই অর্থনীতি আবার চালু করার দায়িত্ব পেয়েছিলাম তারা দিশা খুঁজে পাচ্ছিলাম না।’


তিনি আরো বলেন, ‘এখন যাওয়ার সময় স্বস্তি পাচ্ছি যে আমরা অবস্থার মোকাবেলা করতে পেরেছি এবং নতুন অর্থনীতির বুনিয়াদ রচনা করে রেখে যেতে পারছি। এখন আর পাওনাদাররা আমাদের তাড়া করতেও আসবে না। আন্তর্জাতিক লেনদেনে আমরা চোখে অন্ধকার দেখব না। 


আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার। আমাদের দেশপ্রেমিক প্রবাসী ভাই-বোনদের রেমিট্যান্সের টাকায় এই রিজার্ভ ক্রমেই বাড়ছে।’ প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণে আইন সংশোধন, বিদেশে আইনি সহায়তা, নতুন শ্রমচুক্তি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।



নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে। টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। বাজার তদারকি ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।


শ্রমিক অধিকারকে মানবাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনসমূহ অনুসমর্থন করা হয়েছে—যা কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে। যুগান্তকারী নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।


বন্দর ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কাঠামোতে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে ইউরোপীয় সর্ববৃহৎ বিনিয়োগসহ একাধিক কৌশলগত প্রকল্প এগিয়েছে। ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গভীর সমুদ্রবন্দর, মৎস্য ও আধুনিক টাউনশিপ উন্নয়নে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।


পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা—এই তিনটি মূল ভিত্তি আমরা দৃঢ়ভাবে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি কিংবা অপর দেশের নির্দেশনা ও পরামর্শনির্ভর বাংলাদেশ এখন আর নয়—আজকের বাংলাদেশ নিজের স্বাধীন স্বার্থ রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল। বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


রোহিঙ্গা সংকট আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির ওপর একটি গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে। দুঃখজনকভাবে, দীর্ঘ সময় ধরে এই সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ দৃশ্যমান ছিল না। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মৃতপ্রায় এই ইস্যুটিকে পুনরায় বিশ্ব মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।


এই সংকটের গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতিসংঘ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব নিজে বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং সমস্যার টেকসই সমাধানে সহায়তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আমার অনুরোধে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা বিষয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


No comments:

Post a Comment

Pages