সময় ডেস্ক : শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় ফেসবুকে নির্বাচনী "না" ভোট প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর পাইলট মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিজের ফেসবুক আইডি তে না ভোটের পক্ষে একটি স্ট্যাটাস দেন স্থানীয় এক নারী। দুপুর দুইটার দিকে ওই নারী ভোজেশ্বর এলাকায় আসলে তাকে নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা লাঠি সোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় উভয় পক্ষের অনেকেই আহত হন।
আহতরা হলেন, ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান (৪৫), জপসা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সবুজ মাদবর (৪০), ভোজেশ্বর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির উদ্দীন (৩৫)।
এছাড়া জামায়াতের পক্ষের আহতরা হলেন,মো. শাহ আলম (২৬), মিজানুর রহমান (২৬) এবং নড়িয়া (পশ্চিম) উপজেলার জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম (৩০)।
ঘটনার বিষয়ে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, আমরা জামায়াত ইসলামের একজন কর্মীর প্রতিষ্ঠানে ভোট চাইতে গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ভোট চাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র ভোট চাইতে যাওয়ায় আমরা হামলার শিকার হয়েছি।
অন্যদিকে নড়িয়া (পশ্চিম) উপজেলা জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,তারা অতর্কিতভাবে আমার প্রতিষ্ঠানে এসে আমার ও আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এর আগেও বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার রাশেদ আহমেদ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুরে নড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বাহার মিয়া বলেন, সাম্প্রতি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস কে কেন্দ্র করে ভোজেশ্বরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে তারা লাঠি সোটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

No comments:
Post a Comment