বিচারককে ঘুষ প্রদানকালে আটক এসআই যেভাবে ছাড়া পেলেন - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Tuesday, 6 January 2026

বিচারককে ঘুষ প্রদানকালে আটক এসআই যেভাবে ছাড়া পেলেন


সময় ডেস্ক :
বরগুনার পাথরঘাটায় একটি সিআর মামলার আসামির জামিন নিতে বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে ঘুস দিতে গিয়ে পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহরিয়ার জালালকে আটক করা হয়। পরে বিভাগীয় মামলার শর্তে তাকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।


মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মো. সাহেদ চৌধুরী।


এর আগে সোমবার দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা ৫টার দিকে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদাকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তাঁর অনুরোধে বিভাগীয় মামলার শর্তে পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা ও সহকারী পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মো. সাহেদ চৌধুরীর জিম্মায় এসআই শাহরিয়ার জালালকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


আদালতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার দুপুর ২টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ তার খাস কামরায় অবস্থানকালে এসআই শাহরিয়ার জালাল অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সালাম বিনিময়ের পর তিনি একটি মামলার কাগজ দেখিয়ে আসামি মো. রাজু মিয়ার জামিনের সুপারিশ করেন।


এ সময় তিনি জানান, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে এবং জামিন দিয়ে একটি রি-কলের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। ম্যাজিস্ট্রেট এই বেআইনি তদবিরে বিব্রত বোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেটকে অবৈধভাবে প্ররোচিত ও প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ঘুষ হিসেবে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন এসআই শাহরিয়ার জালাল।


এ ঘটনাকে অসদাচরণ ও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আদালতের কোর্ট পুলিশের সিএসআই, জিআরও এবং সহায়ক কর্মচারীদের উপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন। পরে বিষয়টি পাথরঘাটা থানার ওসি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারকে জানানো হলে তিনি বিভাগীয় মামলার আশ্বাস দিলে এসআইকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।


এদিকে অভিযুক্ত এসআই শাহরিয়ার জালালের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। থানায় গিয়েও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা বলেন, ‘বিচারক অর্ডার শিটে যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি মূলত ম্যাজিস্ট্রেট ও এসআই শাহরিয়ার জালালের মধ্যে ঘটেছে। এর বেশি কিছু বলার নেই বলে তিনি জানান।


No comments:

Post a Comment

Pages