প্রশাসনের দায়িত্বহীনতায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা শহিদ মিনার থেকে সকল শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল চুরি - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Tuesday, 16 December 2025

প্রশাসনের দায়িত্বহীনতায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা শহিদ মিনার থেকে সকল শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল চুরি


জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক : ৫৪তম বিজয় দিবসের দিনে প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার কারণে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা শহিদ মিনার বেদি থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের ঘন্টাখানিক পর সমস্ত ফুল চুরি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটে।


সরজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফুলবিহীন অবস্থায় শহিদ মিনার বেদিতে জুতা পায়ে আমজনতা ঘুরাঘুরি করছে। বেদিজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল কয়েকটি ফুল। নিরাপত্তায় বাড়তি কোনো আয়োজন চোখে পড়েনি। 


জানা যায়, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মোগলাবাজার থানা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), উপজেলা স্কাউট, রাজা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় সহ সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়া শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল কে বা কারা নিয়ে যায়।


দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাব এর পক্ষ থেকে বীর সেনানিদের শ্রদ্ধা অর্পণের জন্য শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা শ্রদ্ধাঞ্জলিও চুরি হয়। সে সময় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ অন্যান্য সদস্যের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।


উপজেলা মাঠে বিজয় দিবস মেলার স্টল, কুচকাওয়াজ প্যারেড ও অন্যান্য অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশাসন কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় দুঃসাহসিক কর্মকান্ড ঘটে বলে প্রশাসন কর্তৃপক্ষ দাবি করে।



অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য বছর উপজেলার সকল বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেও এবছর তাদের উপস্থিতি অত্যান্ত কম থাকায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেন।


নির্বাচনের জন্য যেখানে সারাদেশে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে সেখানে উপজেলা প্রশাসনের উদাসীন ও দায়িত্বহীনতার কারণে নিরাপত্তায় ঘাটতি দেখা দেয়।


বিকেলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ছবি তুলতে শহিদ মিনারে ছুটে যান। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সব ছবি পোস্ট করেন। বেদিতে ফুল না থাকায় উম্মা প্রকাশ করে দুই যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা অনেক প্রতিষ্ঠানকে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে দেখেছি। বিভিন্ন স্টল ঘুরে এসে দেখি শহিদ মিনারে কোনো ফুল নাই। পরে জানতে পারি সব ফুল চুরি হয়েছে। প্রশাসন কোনো অবস্থাতে দায় এড়াতে পারেনা বলে তারা জানান।


দুঃখ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, নিরাপত্তা জন্য শহিদ মিনার এলাকায় দুজন আনসার সদস্য রাখার প্রয়োজন ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখবেন উল্লেখ করে ইউএনও আরো বলেন, অপেক্ষমান শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল রাখার আগে তাকে জানানো দরকার ছিলো। 


No comments:

Post a Comment

Pages