অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে, তবে... - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Wednesday, 19 November 2025

অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে, তবে...


সময় ডেস্ক :
অবৈধ মোবাইল আমদানিকারক ও চোরাচালানচক্র সম্প্রতি এনইআইআর (এনইআইআর) ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার ছড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। 


তিনি স্পষ্ট করেছেন, দেশে ব্যবহৃত কোনো মোবাইল সেট—বৈধ বা অবৈধভাবে কেনা—কোনোটিই বন্ধ হবে না; এমনকি দেশের বাইরে থেকে আনা ফোনও সচলই থাকবে।


বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।


সম্প্রতি দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন প্রধান মিজানুর রহমান সোহেলকে মধ্যরাতে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ১০ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়। কেন আটক করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে তার দাবি, পুরো বিষয়টি ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।


ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, একজন সাংবাদিককে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চলছে। এ ঘটনায় আমার কোনো ভূমিকা নেই। অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।


ফয়েজ তৈয়্যব জানান, বিটিআরসির ঘোষিত এনইআইআর চালুর পর অবৈধ আমদানিকারক, স্মাগলার ও চোরাচালানচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা বিভিন্ন মার্কেটে বহিরাগত এনে বিক্ষোভ, দেশীয় ব্র্যান্ডের শোরুমে হামলা এবং কর্মচারীদের হুমকি দিচ্ছে। এসব চক্রই এনইআইআর নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।


তিনি আবারো পরিষ্কার করে বলেন, আপনার ব্যবহৃত কোনো ফোন—বৈধ বা অবৈধ—বন্ধ হবে না। বিদেশ ভ্রমণে নিজের ব্যবহারের বাইরে অতিরিক্ত একটি ফোনও আনা যাবে। শুধু ১৬ ডিসেম্বরের পর চোরাই পথে দেশে আনা নতুন হ্যান্ডসেটগুলো নেটওয়ার্কে কাজ করবে না।


ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, গত সপ্তাহে অবৈধ আমদানিকারক চক্রের কয়েকজন প্রতিনিধি তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। 


তিনি তাদের দুটি শর্ত দেন—

১) দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শোরুমে হামলা ও হুমকি বন্ধ করতে হবে।

২) এনইআইআর বিরোধী সব কার্যক্রমও বন্ধ করতে হবে।


তিনি বলেন, তারা যদি শর্ত মানে তবে বৈধ আমদানির শুল্ক কমাতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করব বলেছিলাম। এরপর তারা আর যোগাযোগ করেনি।


এই প্রেক্ষাপটে ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ নামে অচেনা একটি সংগঠন থেকে এনইআইআরবিরোধী সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণ আসে। সংগঠনটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত নয় বলে জানান তিনি। তার দাবি, আমন্ত্রণপত্রে দেওয়া ফোন নম্বরটি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের—এ তথ্য একাধিক সূত্র তাকে নিশ্চিত করেছে।


ফয়েজ তৈয়্যব প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সাংবাদিক কীভাবে চোরাচালান কারবারিদের মুখপাত্র বা পিআর এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন? এটি কি সাংবাদিকতার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে?


তিনি আরো বলেন, আইন সবার জন্য সমান; যে কেউ অবৈধ চক্রকে সহযোগিতা করলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে তিনি মনে করেন, এমন পদক্ষেপ স্বচ্ছতার স্বার্থে দিনের বেলাতেই হওয়া উচিত।


অবৈধ আমদানিকারক চক্র এনইআইআর বন্ধ করতে এবং বৈধ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তাই আমার ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যার ছড়াছড়ি,—লেখেন তিনি।


ফয়েজ তৈয়্যব ব্যক্তিগতভাবে চান, মোবাইল আমদানির শুল্ক ও স্থানীয় উৎপাদনের কর কাঠামো যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা হোক, যাতে সাধারণ ভোক্তার জন্য ফোনের দাম আরো কমে।


No comments:

Post a Comment

Pages