সময় ডেস্ক : কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রবাসীর স্ত্রীকে (২৫) ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ধর্ষণের অভিযোগে মুরাদনগর থানায় দায়ের করা মামলার মূল আসামি ফজর আলীকে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ ধর্ষক ফজর আলী এবং ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আরো চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
রোববার (২৯ জুন) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার।
এর আগে রোববার রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান স্বাক্ষরিত সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খানের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আরো চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৬ জুন বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে মুরাদনগর থানার রামচন্দ্রপুর পাঁচকিত্তা গ্রামের ফজর আলী একই গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকার লোকজনের হাতে আটক ও প্রহৃত হন।
পরে স্থানীয়দের হাতে আটক ও আহত ফজর আলী পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শনিবার রাতে ঢাকার সায়দাবাদ এলাকা থেকে ফজর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু লোক তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর বিবস্ত্র অবস্থায় থাকা মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
অপরদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন ওই নারী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে হোমনা উপজেলায় স্বামীর বাড়ি থেকে মুরাদনগরের পাঁচকিত্তা গ্রামে বাবার বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফজর আলী তার বাবার বাড়ি গিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। এ সময় তিনি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন।
টাকা ধার নেওয়া নিয়ে ফজর আলীর সঙ্গে ওই নারীর পরিবারের পরিচয় ঘটে। এ সূত্র ধরেই ফজর আলী বাড়িতে প্রবেশ করে।
ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী ওই নারীর চাচী স্বরসতী বর্মন বলেন, 'আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি পূজো চলছিল পাশের বাড়িতে। আমি ঘর থেকে সেখানে যাব এমন সময়, পাশের বাড়িতে অনেক শব্দ হচ্ছিল। আমি ভয়ে সেখান থেকে দৌড়ে গিয়ে পূজোর অনুষ্ঠান থেকে লোকজন ডেকে নিয়ে আসি। লোকজন উপস্থিত হয়ে দরজা খুলতে গিয়ে দেখে দরজা ভাঙ্গা। পরে সকলের সহযোগিতায় আমরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি।'
স্থানীয় লোকজন জানান, 'ঘটনার সময় ফজর আলীকে স্থানীয় লোকজন আটকে মারধর করেন। পরে তাকে কুমিল্লা শহরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতাল থেকে ফজর আলী পালিয়ে যান।'
মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, 'ফজর আলীকে আসামি করে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বাদীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও শেষ। মামলার মূল আসামি ফজর আলী সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।'

No comments:
Post a Comment