সময় ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাকে চলতি বছর আইএস এবং অন্যান্য জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও সেখানে অবস্থিত তুর্কি এবং কুর্দি গেরিলাদের মধ্যে লড়াই নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই অন্তত এক হাজার ৩৪২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। আহত হয়েছেন আরো ৩৪৩ জন। ২০২৩ সালে দেশটিতে সহিংসতায় ৭৫৭ জন নিহত এবং ৪৩৬ জন আহতের ঘটনা ঘটেছিল।
ইরাকে সারাবছর জুড়ে নিহতের সংখ্যার একটি পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
গত বছরের শুরুর দিকেই তুরস্ক এবং কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) মধ্যে সংঘর্ষ উত্তর ইরাকের কিছু অংশে ভয়াবহরূপ ধারণ করে। এ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭৯১ জন পিকেকে গেরিলা সদস্য নিহত হন এবং আরো তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে পিকেকে- কে বর্ণনা করতে তুরস্ক যে শব্দ ব্যবহার করে তাতে নিহতের সঠিক পরিসংখ্যান জানা কিছুটা কঠিন। তাছাড়া ক্রসফায়ারে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ছিল কি না তা নিশ্চিত করাও কঠিন। ইরাকে পালিয়ে আসা কুর্দি জঙ্গিদের নিয়েও দেশটিতে সারাবছর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। জঙ্গি সহিংসতায় ২৩৫ জন জঙ্গি নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়।
জানুয়ারিতে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চারজন নিহত এবং ১৭ জন আহতের খবর নিশ্চিত করে দেশটির সরকার। তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় কমপক্ষে ৪২ জন বেসামরিক লোক ও ৫৮ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারান এবং আহত হন আরো ১১৮ জন।
তাছাড়া বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে পন্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকা সত্বেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য ইরাক সমালোচনার মুখে পড়েছে। সরকারী সংখ্যা প্রকাশ না করেই অনেকর মৃত্যুদণ্ড গোপনে পরিচালিত করেছে ইরাক।
২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন দাবী করে যে, দেশটিতে ১৬৬ জন কারাবন্দিদের গোপনে হত্যা করা হয়েছে। কিছু সমালোচক আশঙ্কা করেন যে, অনেক ইরাকি সন্ত্রাসবাদের সমর্থন এবং প্রমাণ লোপাটের জন্যই এই গোপনীয়তা।
যদিও ইরাকে মার্কিন সৈন্যদের হস্তক্ষেপে যুদ্ধ কার্যক্রম কিছুটা কমে এসেছে। যুদ্ধ, সহিংসতা বন্ধে এবং স্থানীয় বাহিনীকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করার জন্য প্রায় ২৫০০ মার্কিন সৈন্য ইরাকে অবস্থান করছে।
সূত্র : অ্যান্টি ওয়ার

No comments:
Post a Comment