সময় ডেস্ক : ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশেদ আল-আলিমি। প্রিয়া ২০১৭ সাল থেকে কারাগারে বন্দি আছেন। প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পাওয়ায় আগামী এক মাসের মধ্যে তার দণ্ডটি কার্যকর হতে পারে। ২০১৭ সালে এক ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল বলেছেন, নিমিশার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহয়োগিতা করার চেষ্টা করছে সরকার।
প্রিয়ার ৫৭ বছর বয়সী মা গত বছরই ইয়েমেনের সানায় যান। তাকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করেন তিনি। যারমধ্যে আছে ব্লাডমানিও। এটি একটি ইসলামিক নিয়ম। যেখানে হত্যার শিকার ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
২০১৭ সালে বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর তার পরিবার সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট তাদের আপিল খারিজ করে দেয়। সবশেষে রায়টি প্রেসিডেন্টের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। তবে প্রেসিডেন্টও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। এখন ব্লাডমানি ছাড়া এই ভারতীয় নারীর ছাড়া পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
কেরালার পালাক্কড় জেলার বাসিন্দা নিমিশা পেশায় নার্স ছিলেন। স্বামী এবং মেয়েকে নিয়ে থাকতেন ইয়েমেনে। ২০০৮ সাল থেকে ইয়েমেনের এক হাসপাতালে কাজ করতেন নিমিশা।
২০১৪ সালে তার স্বামী এবং ১১ বছরের কন্যা ভারতে ফিরে এলেও তিনি সে দেশেই থেকে যান। স্বপ্ন ছিল নিজের ক্লিনিক খোলা। ওই বছরই মাহদির সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। মাহদি তাকে নতুন ক্লিনিক খুলতে সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দেন। ২০১৫ সালে দু’জন মিলে ক্লিনিকও খোলেন।
এরপর থেকেই শুরু হয় দুই অংশীদারের মতবিরোধ। অভিযোগ, এক পর্যায়ে নিমিশার পাসপোর্ট কেড়ে নেন মাহদি। একাধিক বার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও লাভ হয়নি।
ক্ষোভে ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই মাহদিকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেন ওই নার্স। নিমিশার দাবি, মাহদিকে ঘুম পাড়িয়ে নিজের পাসপোর্ট পুনরুদ্ধার করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। কিন্তু ওভারডোজের কারণে মৃত্যু হয় মাহদির। এরপর অন্য এক জনের সাহায্য নিয়ে মাহদির মরদেহ টুকরো টুকরো করে কেটে পানির ট্যাঙ্কে ফেলে দেন তিনি। ইয়েমেন থেকে পালানোর সময় ধরা পড়ে যান। ২০১৮ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ইয়েমেনের আদালত।
সূত্র : এনডিটিভি

No comments:
Post a Comment