রণক্ষেত্র বন্দরবাজার, অর্ধশতাধিক সিএনজি ভাংচুর, আহত-৩০ - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Thursday, 12 September 2024

রণক্ষেত্র বন্দরবাজার, অর্ধশতাধিক সিএনজি ভাংচুর, আহত-৩০


জাবেদ এমরান : সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের ব্যবসায়ী ও সিএনজি চালকদের মধ্যে তিন দফা সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নগরীর সিটি পয়েন্ট, কোর্ট পয়েন্ট ও জিন্দাবাজার এলাকা। দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় অর্ধশতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও পাঁচটি দোকান ভাংচুরের শিকার হয়। সে সময় আহত হন ৩০ জন।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বন্দরবাজারে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে ও পানের পিক ফেলাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনদফায় এ সংঘর্ষ সোয়া ১টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুর ১টার দিকে নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় অবস্থিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন সিটি সুপার মার্কেটের সামনে যাত্রীর সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকের অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। যাত্রী সাথে সিএনজি চালকের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলাকালে সিটি মার্কেটের এক ব্যবসায়ী যাত্রী নামিয়ে গাড়ি সরাতে বলেন। ওই সময় চালক ও ব্যবসায়ীর মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হলে যুক্ত হন আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী। একপর্যায় চালকের পক্ষ নিয় বেশ কয়েকজন চালক একজোট হয়ে ব্যবসায়ীদের দিকে মারমুখী হন এবং দুপক্ষের মাঝে হাতাহাতি হয়। তার জের ধরে কিছুক্ষণ পর দুপক্ষের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়। সিএনজি চালকরা দাবি করেন, একযাত্রী পানের পিক এক ব্যবসায়ী পায়ে ফেলে দেয়াকে কেন্দু করে ব্যবসায়ীরা দল বেঁধে চালকদের ওপর হামলা চালায়।



উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুপুর একটায় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। সংঘর্ষে সিএনজি ভাংচুরে শিকার হলে চালকরা সে সব সিএনজি অটোরিকশা সিটি পয়েন্টের সামন থেকে মধুবন সুপার মার্কেটের সামন পর্যন্ত তিনপাশের সড়ক যানবাহন রেখে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ফলে তিন দিকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্ম দিবস হওয়ায় সড়কে ছিলো জনতার স্রোত। জনসাধারণকে সংঘর্ষস্থল পায়ে হেটে অতিক্রম করতে যেখা যায়।


দুপুর পৌনে দুইটায় আবারো একপক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রাখে ও জনসাধারণ দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। এক পর্যায়  সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিকের ডিসি বি এম আশরাফ উল্লা তাহেরসহ একদল পুলিশের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ থামে 


বিকেল সাড়ে তিনটায় সিটি পয়েন্টের পাশে যাত্রী ছাউনি সংলগ্ন স্ট্যান্ডে অবস্থানকারী চালক ও হাসান মার্কেটের ১নং বদ্ধ থাকা গেটের ভেতরে থাকা ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৃতীয় দফায় ইটপাটকেল ছুড়াছুঁড়ি ঘটনা ঘটে। পরে সিটি সুপার মার্কেটসহ আশপাশের শতাধিক ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা একজোট হয়ে চালকদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে জিন্দাবাজারসহ নানা স্থান দিয়ে চালকরা পালিয়ে বাঁচে। সে সময় আরেক দফা সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করা হলে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বাঁধা দেন। ফলে সিএনজি ব্যাপক ভাংচুরের হাত থেকে রক্ষা পায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দুটি গাড়িতে করে সেনাবাহিনী ছুটে আসে। জনসাধারণের সহায়তায় সড়কে পড়ে থাকা সিএনজি অটোরিকশা সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক সিএনজি অটোরিকশা ও পাঁচটি দোকান ভাংচুরের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হন উভয়পক্ষের ৩০জনের মত। তার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতরা সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালসহ নানা স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়। সন্ধার আগ মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজি অটোরিকশা ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে রেজিস্টারি মাঠে জড়ো করে রাখা হয়।



সংঘর্ষ নিয়ে ব্যবসায়ী ও চারকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন- তারা দীর্ঘদিন ধরে সিটি মার্কেটের সামনে অটোরিকশা পার্কিং ও যাত্রী উঠানো এবং নামানো না করতে নিষেধ করছেন। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষও দিয়েছে এমন নির্দেশনা। কিন্তু কোনো নির্দেশনা না মেনে অটোচালকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিটি মার্কেট, সিটি করপোরেশন, কুদরত উল্লাহ মসজিদ মার্কেট ও পোস্ট অফিসের সামনে সড়ক দখল করে সিএনজি পার্কিং করে রাখে। পাশাপাশি সড়ক অর্ধেক দখল করে যাত্রী উঠানো ও নামানোর কারনে প্রতিদিন সে সব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আজও কথা বলতে গেলে অটোচালকরা মারমুখী আচরণ করে এবং সিটি মার্কেটের ৫টি দোকান ভাঙচুর করে।


চালকরা বলেন, আমরা সড়কে আমাদের স্ট্যান্ডে সিএনজি অটোরিকশা রেখে যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছি। এতে কারো সমস্যা হওয়ার কথা না। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে, আমাদের মারধর করে শতাধিকের কাছাকাছি সিএনজি ভাংচুর করা হয়েছে। আমরা তার সুষ্ঠু বিচার চাই।


এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক ও  ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে দু’পক্ষকে নিয়ে আলোচনা চলছে।





No comments:

Post a Comment

Pages