জাবেদ এমরান : মাঠে খেলা শুরুর পর পরই মঙ্গোলিয়া বিপক্ষে আক্রমনে যায় বাংলাদেশ। পুরো ৯০ মিনিট আক্রমণাত্মক খেলা খেলে গোলের দেখা পায় নি বাংলাদেশ। গোলের খেলা ফুটবল কিন্তু বেশ কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট করে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে জামাল ভুঁইয়ার দল।
মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে থাকা মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। এ ম্যাচে সফরকারীদের চাওয়া ছিল ড্র। ২১ বছর আগে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সবশেষ দেখায় বাংলাদেশকে ড্রয়ে রুখে দিয়েছিল তারা।
এবারও শেষ পর্যন্ত মঙ্গোলিয়ার চাওয়া পূরণ হয়েছে। সৌদি আরবের দাম্মামের স্মৃতির পুনরাবৃত্তি সিলেটে করতে চেয়েছিল তারা। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের পোস্টে কোনো শট না নিয়ে নিজেদের রক্ষণ আগলে রেখে তা করেই ছাড়ল তারা।
এদিকে নতুন বছরেও প্রত্যাশিত শুরু পেল না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কোচ হিসেবে জয়হীন থাকলেন হাভিয়ের কাবরেরাও। বছরের প্রথম ম্যাচে কদিন আগেই মালদ্বীপের মাঠে ২-০ গোলে হেরে এসেছে দল। সিলেটে সেই হারের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চাওয়া ছিল। কিন্তু তা পূরণের জন্য দরকারি গোল ছিল না সুমন-জীবন কারো পায়ে!
মঙ্গোলিয়ার কাছে অপরাজিত থাকল বাংলাদেশ। ২০০২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম লেগে ৩-০ গোলের জয়ের পর দুই দলের ফিরতি লেগ ২-২ ড্র হয়েছিল।
এদিন দুটি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান হাভিয়ের কাবরেরা। ৪-১-৪-১ ফরমেশনে বিশ্বনাথ ঘোষ ও বিপলু আহমেদের বদলে রিমন হোসেন ও আতিকুর রহমান ফাহাদকে খেলান তিনি। গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতিও ছিল বেশ।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ কড়া নাড়ে দরজায়। কিন্তু মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা রাকিব হোসেন আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান গোলমুখে। গোলরক্ষকের গ্লাভস গলে বল বেরিয়ে গেলেও ঠিক পজিশনে থাকতে না পারা সুমন রেজা পারেননি পা ছোঁয়াতে।
চতুর্থ মিনিটে মাঠে একটি কুকুর ঢুকে পড়লে খেলা বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। মিনিট চারেক ফের শুরু হয় খেলা। দশম মিনিটে প্রথম কর্ণার পায় বাংলাদেশ। কিন্তু জামালের কর্ণার লাফিয়ে উঠেও হেড করতে পারেননি ইয়াসিন আরাফাত।
পাঁচ মিনিট পর দুই জনকে কাটিয়ে ইয়াসিন নিখুঁত থ্রু পাস বাড়ান। অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বক্সে ঢুকে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন ইব্রাহিম। বাকিটা সময় নিজের জায়গায় ছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশের গোল না পাওয়ার হতাশা আরও বাড়ে ৪১তম মিনিটে। সোহেল রানা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের উপর থেকে শরীরটা ঘুরিয়ে শট নেন সুমন। বল গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ক্রসবার কাঁপিয়ে ফেরে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জামালের ফ্রি কিকে ইয়াসিন হেড বুক দিয়ে নামিয়ে নেন সুমন। কিন্তু ক্রসবারের উপর দিয়ে মেরে হতাশা আরও বাড়ান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও শুরুর দিকে বাংলাদেশে খেলে অগোছালো। ৬১তম মিনিটে সুমনকে তুলে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবনকে নামান কাবরেরা। সুমনের গোলের অপেক্ষা আরও বাড়ল। একমাত্র গোলটি তিনি করেছিলেন গত অক্টোবরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে।
দশ মিনিট পর রিমনের নিচু পাসে জামালের ফ্লিক কর্ণারের বিনিময়ে আটকান গোলরক্ষক। ৭৫তম মিনিটে দুটি পরিবর্তন আনেন কাবরেরা। রাকিব ও জামালকে তুলে বিপলু ও জাফর ইকবালকে নামান। সিলেটের ছেলে বিপলু লাইনের পাশে আসতেই গ্যালারির উচ্ছ্বাস আরও বাড়ে।
শেষ দিকে আরও দুটি পরিবর্তন আনেন স্বাগতিক কোচ। ইব্রাহিম ও ফাহাদকে তুলে জুয়েল ও রায়হানকে নামান। লং থ্রোয়ে রায়হান হেডের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটাও কাজে লাগাতে পারেনি সতীর্থরা। দ্বিতীয়ার্ধের রায়হান একটি দুর্দান্ত শট করলে বল চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে মাঠের বাহিরে। আধিপত্য বিস্তারকারী বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত মঙ্গোলিয়ার সাথে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়।



No comments:
Post a Comment