সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৭২০ - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Sunday, 10 October 2021

সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৭২০


সময় ডেস্ক :
একই দূরত্বে গাড়ির থেকে মোটরসাইকেলে আরোহণ করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। মোটরসাইকেলে সকল আরোহীদের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করার কারণেই মৃত্যুর হারও বাড়ছে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের। সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ২ জন করে মোটারবাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতি ৩০ দিনে মৃত্যু হচ্ছে ৬০ জন। এ হিসেবে বছরে ৭২০ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় যাত্রী পরিবহনে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহন হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল। আর এই জনপ্রিয়তা মূলত এসেছে বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং অ্যাপের হাত ধরে।


বাংলাদেশ সড়ক যোগাযোগ কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ঢাকায় মোট নিবন্ধিত বাইকের সংখ্যা ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯০টি। এর মধ্যে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ঢাকায় মোট নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার। সে তুলনায় অন্যান্য যানবাহনের নিবন্ধন সংখ্যা অনেকটাই কম। তবে যথাযথ ও মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনায় শতকরা ৪০ ভাগ মৃত্যু কমানো সম্ভব এবং শতকরা ৭০ ভাগ গুরুতর আহত হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে সড়ক বিশেষজ্ঞরা জানান। তারা বলেছেন, মোটরসাইকেল আরোহীসহ সকলকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতাই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।


এদিকে, মূলত কম পয়সায় দ্রুত যাতায়াত তারমধ্যে ডিসকাউন্ট সুবিধার কারণে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল রাইড পরিসেবা। ফটোগ্রাফার আদনান আদিদকে প্রায়ই তার কাজের প্রয়োজনে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হয়। এই যাতায়াতের ক্ষেত্রে তিনি পুরোপুরি এই মোটরবাইকের ওপর নির্ভর করেন। তিনি জানান, ‘খুব ইমার্জেন্সি কোন এসাইনমেন্ট থাকলে বাইকে করে সবচেয়ে কম সময়ে সেখানে পৌঁছানো যায়। আমি যে অ্যাপগুলো ব্যবহার করি সেগুলোর একটা না একটায় ডিসকাউন্ট থাকেই। তখন সেই ভাড়াটা অনেক কম আসে। তাছাড়া বাইকে করে আপনি এমন সব রাস্তায় যেতে পারবেন যেখানে হয়তো গাড়ি চালানো সম্ভব না।’ তাছাড়া এই রাইড পরিবহন সেবাগুলো যাত্রীদের নিরাপত্তায় কয়েকটি সেফটি ফিচার যুক্ত করায় মোটরসাইকেল রাইডে আগ্রহী হচ্ছেন নারীরাও।



মিজানুর রহমান নামের এক সচেতন ব্যক্তি বলেন, ‘এখন রাস্তাঘাটের বেশিরভাগ মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীদের হেলমেট পড়তে দেখা যায়। যেটা বেশ ইতিবাচক। তবে আরোহীরা যে হেলমেটগুলো পড়েন, সেগুলোর মান খুবই খারাপ। যে উদ্দেশে মানুষ এসব হেলমেট পরে থাকে। ওইসব ঠুনকো হেলমেটে কোন উদ্দেশ্য সাধন হয়না। বরং ক্ষতি আরও বেশি। এছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে চালকের বাইক চালানোর পারদর্শিতা এবং গতি-সীমার ব্যাপারে সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


এ বিষয়ে গতকাল শনিবার শ্যামলী ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর আযোজিত ‘নিরাপত্তা সড়ক জোরদারকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক’ এক সভায় এসব তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হয়। বুয়েট এর দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট’র প্রভাষক শাহনেওয়াজ হাসানাত-ই রাব্বি সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অব রোড সেইফটি ২০১৮ এর তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর বিশে^ ১৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এর মধ্যে ৫-২৯ বছর বয়সসীমার মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। এসব মৃত্যুর ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্য আয়েরদেশে সংগঠিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। পঙ্গুত্ববরণ করে আরো অনেক বেশী মানুষ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে ১৩২টি দেশ সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। এর মধ্যে ৪৬টি দেশে গতি সম্পর্কিত, ৪৫টি দেশে মদ্যপান সম্পর্কিত, ৪৯টি দেশে হেলমেট সম্পর্কিত, ১০৫টি দেশে সিটবেল্ট এবং ৩৩টি দেশে শিশুদের জন্য নিরাপদ আসন সম্পর্কিত আইন প্রচলিত আছে। গাড়ির গতি গড়ে ৫ শতাংশ কমানো হয় তাহলে ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব বলে জানান, নিরাপদ সড়ক চাই এর অর্গানাইজিং সেক্রেটারী এস এম আজাদ হোসাইন।


তিনি বলেন, গাড়ীর ড্রাইভার ও যাত্রীদের সিটবেল্ট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হলে সামনের সিটের ক্ষেত্রে শতকরা ৫০ ভাগ এবং পিছনের সিটের ক্ষেত্রে শতকরা ৭৫ ভাগ যাত্রীদের দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার রোধ করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


ছোট গাড়িতে শিশুদের উপযুক্ত আসন ব্যবস্থা রাখলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪ থেকে ৮০ শতাংশ শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. মুখলেসুর। তিনি বলেন, সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে পথচারী বা সড়ক ব্যবহারকারীরা সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে বলে তিনি জানান।


সূত্র : ভোরের পাতা

No comments:

Post a Comment

Pages