শুরু হল শারদীয় দুর্গোৎসব, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Sunday, 10 October 2021

শুরু হল শারদীয় দুর্গোৎসব, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী


বিশেষ সংবাদদাতা :
শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। সোমবার (১১ অক্টোবর) দশভুজাদেবী দুর্গার ষষ্ঠী বিহিত পূজা। রোববার (১০ অক্টোবর) দেবী বোধন এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ উৎসব। আর সোমবার সায়ংকালে (সন্ধ্যায়) দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। সকাল সাড়ে ৬টায় কল্পারম্ভ এবং বিকাল ৪টায় আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে উৎসবের প্রথম দিন ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন হবে। 


রোববার ছিল দুর্গা দেবির বোধন। তবে দুর্গাষষ্ঠীর মধ্য দিয়েই দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু। সারা দেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনে উল্লাসিত ভক্তকূল। এ উপলক্ষে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা  বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।


এ উৎসব ঘিরে দেশ এখন আনন্দমুখর। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবছর রাজধানীতে ২৩১টিসহ সারা দেশে ৩২ হাজার ১১৮টি স্থায়ী, অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় ৬৮২টি মণ্ডপ  বেশি। রোববার মন্দির ও মণ্ডপে স্থাপন করা হয় বোধনের ঘট। ভক্তের ভক্তি, নিষ্ঠা আর পূজার আনুষ্ঠানিকতায় মাতৃরূপে দেবী দুর্গা অধিষ্ঠিত হবেন মণ্ডপে মণ্ডপে। ভক্তের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে জাগরিত হবে বিশ্ব থেকে অশুভকে বিদায় দেওয়ার পণ। দুর্গোতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনে উচ্ছসিত ভক্তকূল। সারা দেশে এখন চলছে উৎসবের আমেজ।


ভক্তরা মনে করেন, শারদীয় এই উৎসবের মাধ্যমে কন্যাস্থানীয় দেবী সপরিবারে পিতৃগৃহে আগমন করেন। দেবীর দশ হাত। দেবীকে আমরা দেখি যুদ্ধের সাজে। যুদ্ধের সময় দেবীর ডানদিকের পাঁচটি বাহুতে উপর থেকে নিচে থাকে ত্রিশূল, খড়গ, চক্র, তিক্ষè বান ও শক্তি নামক অস্ত্র। বাম দিকের পাঁচটি বাহুতে নিচ থেকে উপরে খেটক (ঢাল), ধনুক, নাগপাশ, আঙ্কুশ, ঘণ্টা। অস্ত্র দিয়ে তিনি যুদ্ধ করে দুষ্টের দমন আর শিষ্ঠের পালন করেন। দেবী যখন মমতাময়ী মায়ের রূপ নেন তখন তার হাতে থাকে কন্যাণের প্রতীক পদ্ম, শঙ্খসহ দশটি অস্ত্র। দেবীর গায়ের রং অতসী ফুলেরমতো উজ্জ্বল। পূর্ণিমার চাঁদেরমতো তার মুখ। তিনি ত্রিনয়না। মাথার একপাশে বাঁকা চাঁদ। সিংহ তার বাহন। দেবীর ডানে ধনদাত্রী লক্ষ্মী, পাশে সিদ্ধিদাতা গণেশ। দেবীর বামপাশে বিদ্যাদায়িনী সরস্বতী এবং তার পাশে শৌর্য-বীর্যের প্রতীক কার্তিক। প্রতি বছর বিভিন্ন বাহনে স্বপরিবারে শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী মর্ত্যলোকে আসেন বাপের বাড়ি বেড়াতে। বছর বাদে মেয়ে আসছেন বাপের বাড়ি, মেয়েকে বরণ করতে তাই আয়োজনেরও কমতি নেই। ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে ৫ দিনব্যাপী এ পূজার সব প্রস্তুতি। ধর্মীয় এ উৎসব ঘিরে বাংলাদেশ এখন আনন্দমুখর। 


পুরান মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্ত কালে তিনি এই পূজা আয়োজন করেছিলেন বলে দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাজা রাবনের হাত থেকে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারের জন্য রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র শরৎকালে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরৎকালের এই পূজাকে হিন্দু মতে অকাল বোধনও বলা হয়। বাঙালির হৃদয়ে শরৎকালের দুর্গার অধিষ্ঠান কন্যারূপে।


রোববার দুপুরে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে তেমন ঝুঁকি দেখছি না। তবে আশংকার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছি না। দুর্গাপূজা উৎসব কেন্দ্র করে জঙ্গিরা অনলাইনে সক্রিয়। তারা রাতে মণ্ডপে হামলা করার পরিকল্পনার প্রচারণা চালাচ্ছে। যখন পুলিশ ও লোকজন কম থাকে, তখনই তারা হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে কেউ তাদের পোস্ট  দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছে, এমন কাউকে পাওয়া যায়নি। 


নিজেদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা মন্দিরগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনেছি। এছাড়াও ঢাকা শহরের বড় মন্দিরগুলোতে অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম করা হবে। ছোট মন্দিরগুলোতে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করবে।


বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ ১১ অক্টোবর সোমবার ষষ্ঠী, ১২ অক্টোবর সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর অষ্টমী, ১৪ অক্টোবর নবমী এবং ১৫ অক্টোবর দশমী। দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে। এর ফল হচ্ছে ছত্রভঙ্গ। আর দেবী স্বপরিবারে স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন দোলায় (পালকি) চড়ে। যার ফল  হচ্ছে মড়ক। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে প্রতিদিন পূজানুষ্ঠান ছাড়াও ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ আরতি, দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, আরতী প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় একই ধরনের অনুষ্ঠান সূচি অন্যান্য পূজা মণ্ডপেও।


প্রতি বছর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বেড় হতো। করোনা মহামারির কারনে এ বছর কোন শোভাযাত্রা বেড় হবে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।


রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোতে ভাস্বর হয়ে উঠুক, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধনকে আরো সুসংহত করুক। দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক উৎসবও। দুর্গাপূজা দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বাণীতে বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই একসাথে উৎসব পালন করব। সকলে মিলে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। তাই এ দেশ আমাদের সকলের। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।


No comments:

Post a Comment

Pages