খালেদার হাত অনেক লম্বা - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Thursday, 9 September 2021

খালেদার হাত অনেক লম্বা


সময় ডেস্ক :
কক্সবাজার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি তহশিলদার খালেদা আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, সেবা প্রার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও অসৈজন্যমূলক আচার-আচারণ এর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এসব অনিয়ম এর বিরুদ্ধে গত কয়েকমাস পূর্বে ভূক্তভোগীর পক্ষে থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো স্বপদে বহাল তবিয়তে। তাঁর এসব অপেশাদার কর্মকান্ডে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি, হয়নি এতে সবাই অনেকটাই মিলেমিশে খায়, কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এমন একটা দায়সারাভাব। 


এছাড়া উল্টো সেবা প্রার্থীদের বেপরোয়া হয়ে দম্ভোক্তি ও হুমকার দিয়ে বলেন, “আমার হেডামের বতি অনেক লম্বা” আমাকে কেউ লোমও ছিড়তে পারবেনা। হেডাম থাকলে আমাকে এখান থেকে বদলি করাণ” অতো অনিয়ম ও অভিযোগ পরেও অদ্যাবধি বহাল তবিয়তে তার খুঁটির জোর কোথায় তা নিয়ে বিভিন্ন সেবা প্রার্থী ছাড়াও ক্ষোধ তাঁর অফিসের অন্যান্য কলিগদের মাঝেও নিয়মিত কানাঘুষা চলছে। 


ভুক্তভোগী চিকিৎসক নজরুল বলেন, ৩৯৪০ নং আমার একটি নামজারি খতিয়ানের জন্য আবেদন করলে আমার বাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে এবং দুর্ব্যবহার করে। টাকা না পেয়ে খালেদার টেবিলে প্রায় ২ মাস ফাইল আটকিয়ে রাখে। পরে ৬মাস বিলম্বে এ্যাসিলেন্ড এর সহযোগিতায় এটি নামজারি করতে সক্ষম হয়।  


ভুক্তভোগী সাংবাদিক শফিক বলেন, (০৮ সেপ্টেম্বর) বুধবার বিকেলে ভূমি সংক্ষান্ত নিজেদের একটি কাজ নিয়ে কক্সাবজার ভূমি অফিসে যায়। গিয়ে তহশিলদার জাহেদ এর সাথে দেখা করি। “ করোনা কালে কেউ কারো দেখা পায়নি। এখন দেখা হচ্ছে। আগের মানুষগুলো এখনও রয়েগেছে। এভাবেই সৌজন্যমূলক কথোকপথন চলাকালে পাশের টেবিলে থাকা সহকারি তহশিলদার খালেদা চট করে বলেন, “আমার হেডামের বতি অনেক লম্বা” কেউ আমার লোমও ছিড়তে পারবেনা। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কাজ হবে না।  হেডাম থাকলে এখান থেকে আমাকে বদলি করাণসহ নানা কুরুচিপূর্ণ আচার-আচারণ করতে থাকে। পরে অন্যদের নিষেধে আমি চুপ করে উঠে বিষটি এসিল্যান্ডকে অবগত করি। 


এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি)  নু-এমং মারমা বলেন, “সেবা প্রার্থী এমনকি অফিসের কলিগদের সাথেও নানা সময় দুর্ব্যবহারসহ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”   


এদিকে একটি সূত্রে জানা গেছে, জেলাব্যাপী ভূমি অফিসে খালেদার সাঙ্গপাঙ্গসহ প্রায় ১৫ জনের একটি দালাল চক্র রয়েছে। যারা ভূমি অফিসের নানাকাজে সেবাগ্রহিতার কাজ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে চুক্তির মাধ্যমে কাজ এনে খালেদাকে গুছিয়ে দেয়। শুধু তা নয়, অভিযোগ রয়েছে ভূমি অফিসের চৌকাঠ পেরুলেই খালেদার নিজের করা আইন মানতে হয় ভূমিসেবা নিতে সাধারণ মানুষেকে। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে নানাভাবে উপরের ভয়ভীতি দেখায় এবং অফিসে ছিল্লাছিল্লি করে প্রায়সই। এছাড়া কথায় কথায় দম্ভোক্তি দেখিয়ে বলে বেড়ায়  “আমি বিএনপির মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে আমাদের তিন সহোদরের নিয়ন্ত্রণে জেলার ভূমি অফিসগুলো চলছে। এছাড়া আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সরকারি চাকুরিজীবি। আমার হেডামের বতি অনেক লম্বা, আমার কেউ লোমও ছিড়তে পারবেনা। হেডাম থাকলে আমাকে এখান থেকে বদলি করাণ”। 


শুধু তা নয় নামজারি ও খাজনার দাহিলা পরিশোধে সরকারি নির্ধারিত ফি এর চেয়ে ৩/৪ গুণ অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকটি নামজারি থেকে তদন্তের অজুহাতে ২/৫ হাজার অনৈতিকভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদি খালেদার দাবিকৃত ঘুষের অর্থ দিতে অস্বীকার করলে সমস্যা আছে বলে নানা টালবাহানা করে। সেবা প্রার্থীদের ফাইল মাসের পর মাস ফেলে রেখে টাকা দিতে বাধ্য করায়। অনেকসময় নামজারি দুর্বব্যহারে সেবাগ্রহীতারা চোখের জল ফেলে। এছাড়া সরকারি চেয়ারে বসে বিভিন্ন দালাল চক্রের মাধ্যমে মোটা অংকের বিনিময়ে নামজারির কন্ট্রাক্ট নেয় খালেদা। যা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও কানুনগোর টেবিলগত কৌশলে তদন্ত করলে পাওয়া যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেবা প্রার্থী ও অফিসের লোকজনদের এমন বক্তব্য। 


এদিকে খালেদার পূর্ব কর্মস্থল থেকে খবর নিয়ে জানা যায়, যখন সে ঈদগাঁহ ভূমি অফিসে ছিলো সেখানেও সেবা প্রার্থীদের সাথে প্রায়সই এরকম দুর্ব্যবহার ও অসৈজন্যমূলক আচার-আচার করতো। এমনকি কলিগদের সাথেও। সরকারি অফিসে বসে সবসময় ছিল্লাছিল্লি করতো। ৩ বছর থাকার পর নানা তদবিরের মাধ্যমে সদরে চলে এসে তাঁর পুরনো খুলস এখানেও মেলে ধরেছে।


এ বিষয়ে সহকারি তহশিলদার খালেদা আক্তার এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বীরদর্পে বলেন, “আমি স্থানীয় মেয়ে। স্থানীয় হিসেবে হেডাম দেখাবো-তো। আমার বাবা কে জানেন? হেডাম থাকলে আমাকে সদর ভূমি অফিস থেকে সরিয়ে দিয়ে দেখান। এছাড়াও সাংবাদিকদের ব্যাপারে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বিষাদাগার করেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অন্যান্য অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।  সরকারি অফিসে বসে এসব অসৈজন্যমূলক ও অপেশাদার আচার-আচারণ করতে পারেন কি না জানতে চাইলে উত্তোজিত হয়ে মোবাইল ফোন কেটে দেয়। 


এদিকে ভুমি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা মহতি উদ্দ্যোগ গ্রহণ করলেও কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অসৈজন্যমূলক আচার-আচারণে এসব মহতি উদ্যোগগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাই সচেতন মহল মনে করছেন এসব বিষয়ে সরকারের আরো বেশি কাজ করতে হবে।


যদিও ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন মিডিয়া মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন দুর্বব্যহার দুর্নীতির সমান বলে গণ্য হবে।   

     

এ বিষয়ে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আমিন আল পারভেজ জানান,  খালেদা আক্তারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে শ্রীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 


এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান বলেন, খালেদা আক্তারের বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

সূত্র : ভোরের পাতা


No comments:

Post a Comment

Pages