নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের ওসমানীনগরে ইফতারি ও ঈদে নতুন কাপড় দেরিতে দেয়াকে কেন্দ্র করে বিবাদ থেকে বিয়ের ৯ মাসের মাথায় অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শরিফা বেগম (২০) নবীগঞ্জ উপজেলার পিটুয়া গ্রামের শাকিম উল্যার ছোট মেয়ে।
শনিবার (০৮ মে) দুপুরে পুলিশ ঘরের বিছানা থেকে শরিফার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ নিহতের স্বামী আরশ আলী ও শাশুড়ি মিনারা বেগমকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে, আটককৃত স্বামী ও শাশুড়ির দাবি, পরিবারের সবার অজান্তে শরিফা আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৯ মাস আগে উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের তাহিরপুর গ্রামের মৃত ইছন আলীর ছেলে আরশ আলীর সাথে বিয়ে হয় নবীগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া গ্রামের শাকিম উল্যার ছোট মেয়ে শরিফার। বিয়ের কিছুদিন পর যৌতুকসহ নানা অজুহাতে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন করে। শরিফা অন্তঃসত্ত্বা থাকায় তাদের নির্যাতন সহ্য করে গর্ভের সন্তানকে আলোর মুখ দেখাতে স্বামীর বাড়িতে পড়ে থাকেন। রমজান মাসে পিতার বাড়ি থেকে ইফতারি দিতে দেরি হওয়ায় ও স্বামীর জন্য আলাদাভাবে সাজানো থালা না দেয়ায় শরিফার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শরিফার পিত্রালয় থেকে স্বামীর বাড়ির লোকজনের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না দেয়াকে কেন্দ্র করে শাশুড়ির সাথে কথা কাটাকাটির জের ধরে স্বামী-শাশুড়ি মিলে মারপিট করেন শরিফাকে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক মোবাইলফোনের মাধ্যমে শরিফা তার ভাইকে অবগত করে পরে কথা বলবে বলে ফোন রেখে দেন। পরে সেহরির সময় শরিফাকে ভাই-বোনরা ফোন দিলে তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ পান।
শনিবার নিহতের বড় বোন শিপন আক্তার ও ভাই মিনার হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার বোনের ওপর তার স্বামী ও শাশুড়ি যৌতুকসহ নানা অজুহাতে নির্যাতন করতো। তাদের নির্যাতনের কারনে আমরা তাকে নিয়ে যেতে চাইলেও গর্বের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমার বোন সব কিছু নিরবে সহ্য করে গেছে। আমরা গরিব মানুষ লকডাউনের কারনে অভাবঅনটনে চলতি রমজান মাসে ইফতারী পাঠাতে দেরি ও আরশ আলীর জন্য আলাদা করে সাজানো থালা না দেয়ায় তার স্বামী ও শাশুড়ি শরিফাকে নানাভাবে নির্যাতন করে।
সর্বশেষ নতুন কাপড় পাঠাতে দেরি করায় তারা আমার বোনকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়ে তার গর্ভের সন্তানটিকেও আলোর মুখ দেখতে দিলো না। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসমানীগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। লাশের গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment