নিজস্ব সংবাদদাতা : অনলাইনে কাড়াকাড়ি অফার দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করে ই-সেবাদান প্রতিষ্ঠানগুলো পকেট কাটছে জনসাধারণের। করোনার দুর্যোগপূর্ণ সময়ে স্ব-শরীরে মার্কেটে না গিয়ে অনেকে অনলাইন মার্কেট থেকে পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করছে নামে-বেনামে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব অনলাইন থেকে পণ্য কিনে জনসাধারণ প্রায়ই প্রতারণার শিকার হওয়ার খবর চোখে পড়ে। এবার দারাজের মত প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করেছে সিলেটের সংবাদকর্মীদের সাথে।
অভিযোগে প্রকাশ, দৈনিক ভোরের পাতা'র সিলেটের করেসপন্ডেন্ট ও সিলেটপ্রেসবিডিডটকম এর নির্বাহী সম্পাদক জাবেদ এমরান ১৬ জানুয়ারি দারাজে একজোড়া জুতা অর্ডার করেন। অর্ডারে হোম ডেলিভারি চার্জ ৬৫ টাকা দেখিয়ে পরে ৮০ টাকা চার্জ নেয়। আর অর্ডারকৃত পণ্যের পরিবর্তে পাঁচদিন পর (২১ জানুয়ারি) ক্রেতাকে দেয়া হয় ফুটপাতে বিক্রয় হয় এমন নিম্নমানের পণ্য। প্রতারণার বিষয়টি আগে থেকে অনুমান করায় পণ্য অর্ডারের প্রসেসিং এর প্রত্যেকটা স্কিনশর্ট সংরক্ষণে রাখেন ওই সংবাদকর্মী।
বিষয়টি দারাজের সিলেট অফিস কর্তৃপক্ষকে জানাতে রীতিমত যুদ্ধ করে ফোন নাম্বার নিয়ে এলিন নামে একজনকে কল দিলে অর্ডারকৃত পণ্য পরিবর্তন করে না দিয়ে তিনি টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে কালক্ষেপণ করায় অফিসে গেলে বিষয়টি তেমন একটা আমলে না নিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে অফিসে কর্মরতরা সন্তুষ্টজনক কোনো সমাধান দিতে পারেন নি।
এমন ঘটনা সিলেটের আরো এক সংবাদকর্মীর (নাম প্রকাশে অনিহা) সাথে ঘটেছে। তিনি জানান, দারাজে হাত ঘড়ি অর্ডার দিয়ে টাকা পরিশোধের পর প্যাকেট ছিঁড়ে দেখেন ঘড়ির না দিয়ে দেয়া হয় ব্রেসলাইট।
এখানেই শেষ নয়, একটা অর্ডারে আরেকটা দেয়ার কারণ জানতে ধোপাদিঘীর পারস্থ দারাজের সিলেট অফিসে গিয়ে দেখা যায় একই প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের জটলা। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কাড়াকাড়ি অফার দিয়ে দারাজ প্রতারণা করছে। অফিসে অভিযোগ নিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেবায় কখনো ঢাকা অফিসে অভিযোগ দিতে বলা হয়। তাহলে সিলেট অফিসের কাজ কি? এমন প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। তবে প্রতারণার দায়ে দারাজের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেন কয়েকজন জানান।
সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে জাবেদ এমরান বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন দারাজের সিলেট অফিসে কর্মরত ফাহমিদা, সামাদ ও এলিন বাবুর সাথে। তারা কোনো সন্তুষ্টজনক উত্তর না দিয়ে সম্পূর্ণ দায়ভার সেলারদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তারা বলেন, সেলারদের রিভিউ দেখে কি পণ্য অর্ডার দিয়েছি? পণ্য কেনার টাকা ফেরতের জন্য ৮/১০দিন অপেক্ষা করতে বলেন। প্রয়োজনে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে অভিযোগ দিতে বলেন। অসংখ্য অভিযোগের পরও প্রতারক সেলারদের পণ্য দারাজ কেন প্রদর্শন করে বিক্রি করছে- এমন প্রশ্নে তাদের কাছে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment