ভারতীয় খাসিয়াদের হাতে আটকের পর যা বলেন আকবর - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Monday, 9 November 2020

ভারতীয় খাসিয়াদের হাতে আটকের পর যা বলেন আকবর


সময় ডেস্ক :
এসএমপির বন্দরবাজার ফাড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যার মুল হোতা এসআই (বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভুইয়া ভারতের দনা সীমান্ত এলাকায় খাসিয়াদের হাতে আটক হন।


খাসিয়াদের মারধরে আকবর বলেন, 'রায়হানকে একা মারেননি, ৫-৬ জন মিলে মারাইরে সে মরে গেছে। সিনিয়র এক অফিসারের পরামর্শে আমি পালিয়েছি'। তার দেয়া এমন স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। 


ওই ভিডিওতে দেখা যায় আকবর হোসেন ভূঁইয়ার মুখে ছাপ দাঁড়ি, গলায় মালা পরিহিত আর খাসিয়ারা তাকে পায়ে ও কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। এমন সময় খাসিয়ারা কোন অপরাধে রায়হানকে মারা হলো জানতে চাইলে আকবরকে বলতে শুনা যায় ‘আমি মারিনি ভাই, আমি ইচ্ছা করে একা মারিনি। তারে মারতেছিলো ৫/৬ জন। পাবলিক মেরেছে তাই সে মরে গেছে। আমি বরং তারে হাসপাতালে নিয়েছি। কিন্তু ওখান থেকে সে মরে গেছে। সে টাকা ছিনতাই করেছিলো।’


তাহলে পালিয়েছ কেন এমন প্রশ্নে আকবর বলেন, ‘আমারে এক সিনিয়র অফিসার বলেছেন সাসপেন্ড করে গ্রেপ্তার করতে পারে। তাই তুমি আপাতত চলে যাও। কদিন পরে আইসো। ২ মাস পরে সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। তখন আইসো। আমি অন্য কোন কারণে ভাগিনী ভাই।’


এর আগে গত রোববার গভীর রাতে ভারতের দনা সীমান্ত এলাকার খাসিয়াদের হেডম্যানরা রায়হান হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত এসআই আকবরকে আটক করে তাদের হেফাজতে রাখে।


পরে সোমবার (০৯ নভেম্বর) দুপুর ১ টার দিকে ভারতীয় খাসিয়ারা আকবরকে বাংলাদেশ সীমান্তে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীসহ লোকজনদের কাছে বুঝিয়ে দেন। পরে এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের একটি টিম তাকে জনতার কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।


গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদসরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।


ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।


এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন।


মামলাটি পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


No comments:

Post a Comment

Pages