বিশেষ সংবাদদাতা : রোববার ০৭ জুন দেড় বছর পূর্ণ করলো টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনায় আসা আওয়ামী লীগ সরকার।
দেড় বছর সময় একটা সরকারের জন্য মাইল ফলক। একটা সরকারকে মূল্যায়ন করার জন্য দেড় বছর যথেষ্ট সময়। প্রধানমন্ত্রীর একার উপরই একটা সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা নির্ভর করে না। সরকারের মন্ত্রিসভার উপর এটা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
গত বছরের ০৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছিল। সেই মন্ত্রিসভায় ছোট খাটো কয়েকটি পরিবর্তন ছাড়া পুরো মন্ত্রিসভাই দেড় বছর পার করলো। তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই নানা রকম অস্বস্তি এবং সমস্যার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, নতুন সড়ক পরিবহণ আইন, সামাজিক অস্থিরতাসহ নানা সমস্যায় জনমনে নানা উদ্বেগ উৎকন্ঠা দানা বাঁধছিল। আর চলমান করোনা সঙ্কট সেই উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এত অস্থিরতার মধ্যেও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাফল্যের দিক থেকে পাঁচ জন মন্ত্রী সবচেয়ে এগিয়ে। সরকারের দেড় বছর পূর্তিতে সফল পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে এই প্রতিবেদন-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সাফল্যের কেন্দ্রে যিনি রয়েছেন তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো জনগণের আস্থার প্রতীক। সবাই তাকিয়ে থাকেন তার দিকে। তিনি যে কোন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সাহসী এবং বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। টানা তিন মেয়াদে দেশ পরিচালনায় থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই আচার-আচরণ কিংবা কর্মস্পৃহায় কিছুটা শিথিলতা এসেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিক থেকে একেবারেই ব্যতিক্রম। প্রায় ১২ বছর আগে দেশ পরিচালনায় এসে তিনি যতটা কর্মোদ্দমী এবং দৃঢ়চেতা ছিলেন, এখনো তিনি ঠিক তেমনটাই আছেন। বাংলাদেশে সবচেয়ে সফল মন্ত্রী এবং রাজনীতিবিদ হলেন শেখ হাসিনা। তিনি টানা তৃতীয় ও চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী থেকে জনগনের দুঃখ এবং সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে সফল ব্যক্তি। চলমান করোনা সঙ্কটেও তিনি নিজের দৃঢ়চিত্তের প্রমাণ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি এটা বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, জনগণের মঙ্গলই তার কাছে সবকিছু।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
একইসাথে পদ্মাসেতু-মেট্রোরেলসহ সড়ক অবকাঠামোয় বড় বড় কাজগুলো হচ্ছে, যেখানে কোন দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে এসব কাজ তদারকির ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ ন্যায়নিষ্ঠতার পরিচয় দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদের। এই করোনা সঙ্কটের সময়েও মেগা প্রজেক্টগুলোর কাজ চলছে। কাদের নিজের শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও পদ্মা সেতুর কাজের তদারকি করছেন। অন্যান্য মেগা প্রজেক্টগুলোর কাজও তিনি সাফল্যের সঙ্গে দেখভাল করছেন। এ জন্য বাংলা ইনসাইডারের বিবেচনায় তিনি বর্তমান সরকারের সেরা পাঁচ মন্ত্রীদের মধ্যে একজন।
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক
মতিয়া চৌধুরীর মতো ন্যায়নিষ্ঠ এবং সফল একজনকে বদলে কৃষিমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ড. আব্দুর রাজ্জাকের উপর। মতিয়া চৌধুরীর সফলতা তিনি ধরে রাখতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু তিনি সমস্ত শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি খাদ্য নিরাপত্তাটা তিনি নিশ্চিত করতে পেরেছেন। এই সংকটের মধ্যেই এবার দেশে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন হয়েছে তা আমাদের আশাবাদী করছে। তাছাড়া লকডাউনের মধ্যে সারাদেশে ধান কাটার বিষয়টি তিনি যেভাবে তদারকি করেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
বাংলা ইনসাইডারের বিবেচনায় বর্তমান সরকারের আরেকজন সফল মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। করোনা সঙ্কটে গণমাধ্যমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, গণমাধ্যমের সঙ্কট উত্তরণে কাজ করা, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রনোদনার ব্যবস্থা করা- এইসব কাজগুলো তিনি করে যাচ্ছেন। বহুদিন পর এমন একজন তথ্যমন্ত্রী আমরা পেলাম, যার সঙ্গে গণমাধ্যমের বৈরিতা নেই।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি
ডা. দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই যে বড় কাজটি করেছেন সেটি হলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারি থেকে জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি শিক্ষা অঙ্গনে যে সমস্যাগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল সেগুলোও কথা কম বলে ঠান্ডা মাথায় সমধান করতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। অনেক মন্ত্রীকেই আমরা দেখেছি যে, তারা কাজ করার তুলনায় কথা বলাকেই বেশি প্রাধান্য দেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সেক্ষেত্রে উজ্জ্বল ব্যাতিক্রম। আর করোনা সঙ্কটে তিনি নতুন করে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। এই লকডাউনের মধ্যেও এসএসসি পরীক্ষা রেজাল্ট প্রকাশের ব্যবস্থা করা, অনলাইনে পাঠদান, ই-স্কুলিং এগুলো প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

No comments:
Post a Comment