ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ, ক্ষতিপূরণ দাবি - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Thursday, 9 July 2026

ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ, ক্ষতিপূরণ দাবি


সময় ডেস্ক : :
বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচে রেফারিংয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ফিফার সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে যান নোয়াখালীর এক তরুণ। অভিযোগে ম্যাচে পূর্বপরিকল্পিত জালিয়াতি ও কোটি কোটি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করার দাবি তুলে ওই তরুণ ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।


গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাকিব (২২) সুধারাম থানায় ওই অভিযোগ নিয়ে যান।


লিখিত অভিযোগে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ ও আইন মান্যকারী ফুটবল সমর্থক হিসেবে দাবি করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শাস্তির দাবি জানান। অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হিসেবে ফিফার সভাপতি ও ম্যাচ রেফারি ছাড়াও আরও ১৫/২০ জন ওই ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করেন।


লিখিত অভিযোগে মো. রাকিব উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে (৭ জুলাই) তিনি এবং তার এলাকার অন্যান্য ক্রীড়ামোদী শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বসে রুপালী পর্দায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের মিশর বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন।


খেলা চলাকালীন ম্যাচের শুরু থেকেই বিবাদী রেফারি এবং ফিফা সভাপতি সুপরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী প্রতারণা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করেন।


অভিযোগে রাকিব দাবি করেন, ম্যাচের মাত্র ১৪তম মিনিটে মিশর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মিসর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও, মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিসর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দেয়।


অভিযোগে আরো বলা হয়, ম্যাচের শেষভাগে মিশরীয় ফুটবলাররা পুনরায় গোল করার চেষ্টা করলে রেফারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং মিসরের প্রধান কোচকে অন্যায়ভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করে হয়রানি করেন। এতে মিসর দলের খেলোয়াড়দের মানসিক মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়।


বাদী দাবি করেন, ফিফা কর্তৃপক্ষের এমন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিসর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ফলে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।


সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, তরুণের অভিযোগ নিয়ে থানায় আসার বিষয়টি সত্য। তবে এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয় থানার আইনগত এখতিয়ার নেই। অভিযোগকারীকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


No comments:

Post a Comment

Pages