শাহজালালে সাড়ে ৫ বছরে ৩ হাজার ৭শ কোটি টাকার সোনা জব্দ - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Saturday, 4 July 2026

শাহজালালে সাড়ে ৫ বছরে ৩ হাজার ৭শ কোটি টাকার সোনা জব্দ


সময় ডেস্ক :
সর্বশেষ অভিযানে ৪৫ কোটির সোনা উদ্ধার, বহুল ব্যবহৃত ‘কার্গো হোল্ড’ গত বৃহস্পতিবার দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইট। 


গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা, এভসেক ও সাধারণ গোয়েন্দা সংস্থার একটি যৌথ দল বিমানটিতে তল্লাশি চালায়। এ সময় কার্গো হোল্ডে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন প্রায় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম।


জব্দকৃত এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে পাঁচ বছরে (২০ ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত) শাহজালাল বিমানবন্দরে শতাধিক অভিযানে সর্বমোট ১,৯০২ কেজি (৪৭.৫৫ মণ) চোরাচালানের সোনা জব্দ করা হয়েছে।


বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত ২২ ক্যারেটের মূল্য (প্রতি ভরি ২,২৮,৫৫৬ টাকা) অনুযায়ী, জব্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৩,৭২৮ কোটি টাকা।


অর্থবছর ভিত্তিক সোনা জব্দের পরিসংখ্যান:২০২১-২২ অর্থবছর: ৬৯৮ কেজি,২০২২-২৩,অর্থবছর: ৫৫৫ কেজি ,২০২৩-২৪ অর্থবছর: ৪১৭ কেজি ,২০২৪-২৫ অর্থবছর: ১৬৯ কেজি,২০২৬ (চলতি বছরের এ পর্যন্ত): সাড়ে ৬৩ কেজি।


মামলার চিত্র: বিমানবন্দর থানার তথ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে ৫৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে বাহক বা মূল হোতা ধরা না পড়ায় এর সিংহভাগ মামলাই অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।


তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও কুয়েত থেকে আসা ফ্লাইটগুলোই চোরাচালানের প্রধান উৎস। 


বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও সোনা পাচার করা হচ্ছে, কারণ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে শুল্কের হার কম। শুল্ক গোয়েন্দাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক সক্রিয় সিন্ডিকেট এই অবৈধ বাণিজ্যের সাথে জড়িত।


চোরাকারবারি চক্রগুলো কখনো কেবিন ক্রু, বিমানবালা, পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার, ট্রলিম্যান বা ক্লিনারদের ব্যবহার করছে। আবার কখনো যাত্রীবেশী বাহকের মাধ্যমে নিম্নোক্ত উপায়ে সোনা পাচার করা হচ্ছে:বিমানের সিট, টয়লেট, বর্জ্য ট্রলি বা কার্গো অংশে লুকিয়ে।


ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, ইলেকট্রিক মোটর, ল্যাপটপের ব্যাটারি ও সাউন্ড বক্সের ভেতর। মলদ্বারে বা দেহের বিভিন্ন অংশে। শার্টের কলার, জুতা, সাবানের কেস, বেল্ট, এমনকি স্বর্ণের বারের ওপর কালো বা সিলভার রঙের প্রলেপ দিয়ে। 


কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও চ্যালেঞ্জ সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ এবং ২ জুলাইয়ের দুটি বড় চালানের মধ্যে ব্যাপক মিল থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ জোরালো হচ্ছে।


এ বিষয়ে বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। তদন্তে যার বিরুদ্ধেই অপরাধ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, বর্তমানে নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি এবং আমাদের তৎপরতার কারণেই একের পর এক চালান ধরা পড়ছে। 


পাশাপাশি ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান জোর দিয়ে বলেন, চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করতে দুবাইসহ উৎস দেশগুলোর যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।


No comments:

Post a Comment

Pages