সময় ডেস্ক : : ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে তরুণদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি’। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলনকারীরা রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নতুন দাবিও উত্থাপন করেছেন।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের প্রভাব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় ‘আজাদি-আজাদি’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮ বাংলা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ জুলাই) নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, রথযাত্রার দিন বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ বা দাবি-দাওয়া উপস্থাপনে রাজ্য সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে বিক্ষোভের নামে যদি দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়, তাহলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান, আগামী সোমবার একই সড়কে উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির উদ্যোগে জাতীয় পতাকা হাতে প্রায় ১৪ হাজার কর্মীর অংশগ্রহণে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার রথযাত্রার দিন নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো। ওই কর্মসূচিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমর্থকরাও অংশ নেন। মিছিলকে কেন্দ্র করে ধর্মতলা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “জমায়েত করুন, নিজেদের কথা বলুন। কিন্তু দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া হলে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এরপরও যদি ‘আজাদি-আজাদি’ স্লোগান দেওয়া হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরো দাবি করেন, বিক্ষোভ মিছিলে যারা দেশবিরোধী স্লোগান দিয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment