সময় ডেস্ক : ফিলিপাইনে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ৭.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি সোমবার (০৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের একটু আগে মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানে।
প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একাধিক আফটারশক হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পন সংস্থা।
দক্ষিণ মিন্দানাওয়ের জেনারেল সান্তোস শহর, যেখানে প্রায় ৭ লাখ ২২ হাজার মানুষ বাস করে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে।
ফিভলকস জানায়, সোসকসারজেন অঞ্চলে অবস্থিত এই শহরে তাদের অভ্যন্তরীণ তীব্রতা স্কেলে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি তিনতলা ভবন, যেখানে একটি জোলিবি রেস্তোরাঁ ছিল। ধসে পড়ে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের মেঘে ঢেকে যায়, যা আশপাশের মানুষকে হতবাক করে দেয়।
অন্যান্য ছবিতে দেখা গেছে, বহু ভবনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে- অনেক জায়গায় জানালা ভেঙে গেছে এবং ছাদ ধসে পড়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র রবার্ট ডাগুন স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনকে জানান, শহরের সেন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের ভবন থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় এবং তারা সাময়িকভাবে হাসপাতালের বাইরে কাজ চালাতে বাধ্য হন।
জেনারেল সান্তোস শহরের নটর ডেম অব দাদিয়াঙ্গাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী মেরি অ্যান ব্ল্যাঙ্কো রুডি জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি কলেজে যাওয়ার পথে ছিলেন।
তিনি বলেন, রাস্তায় গাড়িগুলো অস্বাভাবিকভাবে এদিক-সেদিক চলছিল। আমি ভাগ্যবান যে সেগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা লাগেনি। তিনি আরও জানান, রাস্তার পাশের গাছগুলোও প্রচণ্ডভাবে দুলছিল।
রুডি বলেন, কলেজের কিছু ভবন আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা সক্রিয় করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অফিস অব সিভিল ডিফেন্স এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্কুলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা ফিলিপাইন নিউজ এজেন্সি জানায়, দেশে প্রথম দিনের স্কুল শুরুর দিনেই প্রায় ৩.২ মিলিয়ন শিক্ষার্থী এবং ১ লাখ ২৮ হাজার শিক্ষক ও কর্মী এই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট মার্কোস বলেন, আমাদের শিশুদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সুনামি সতর্কতা
এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, যেমন ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানে ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সারাংগানি, দাভাও অক্সিডেন্টাল, তাউই-তাউই এবং সুলুসহ মোট নয়টি প্রদেশের মানুষকে দ্রুত উঁচু জায়গায় বা নিরাপদ অভ্যন্তরীণ এলাকায় সরে যেতে বলা হয়েছে।
ফিভলকস আরও জানিয়েছে, এসব এলাকার বন্দর, মোহনা বা অগভীর উপকূলীয় পানিতে থাকা নৌকার মালিকদের নৌকা নিরাপদে বেঁধে রেখে উপকূল থেকে দূরে সরে যেতে হবে।
প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রও মানুষকে সুনামি সতর্কতা গুরুত্ব দিয়ে মানতে এবং সরকারি নির্দেশ অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সুনামি সতর্কতা মেনে চলুন, এখনই উঁচু স্থানে যান। দেরি করবেন না। আপনার জীবনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছিল, ফিলিপাইনের উপকূলে ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আঘাত হানতে পারে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু এলাকায় ১ মিটার (৩.৩ ফুট) পর্যন্ত ঢেউয়ের সম্ভাবনা ছিল।
তবে পরে হাওয়াইভিত্তিক কেন্দ্রটি জানায়, ফিলিপাইনে সুনামির বড় ঝুঁকি কেটে গেছে, কিন্তু উপকূলীয় এলাকায় মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশে সবচেয়ে বড় ঢেউ দেখা গেছে, যেখানে সুনামি ঢেউয়ের উচ্চতা সর্বোচ্চ ০.৮৩ মিটার (২.৭ ফুট) পর্যন্ত পৌঁছায়।
ইন্দোনেশিয়া প্রথমে উত্তর সুলাওয়েসি, গোরোন্তালো প্রদেশ এবং সাংগিহে দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল, পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়।
উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ এবং গুয়ামেও আগের সুনামি সতর্কতা পরে প্রত্যাহার করা হয়। তবে কর্মকর্তারা জানান, এখনো শক্তিশালী স্রোত এবং সমুদ্রতীরে বিপজ্জনক পরিস্থিতির ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে জাপানের দক্ষিণ উপকূল ও দূরবর্তী দ্বীপগুলোর জন্য সুনামি অ্যাডভাইজরি (সতর্ক পরামর্শ) জারি রয়েছে। সেখানে মানুষকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীর মোহনা ও উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা।
x

No comments:
Post a Comment