জকিগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Wednesday, 3 June 2026

জকিগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ


সময় ডেস্ক :
সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চল জকিগঞ্জ। অদূরে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে জকিগঞ্জ বর্ডার দিয়ে অনেক নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে যায়। আর তাদের সহজে পালাতে সহায়তা করে আওয়ামী লীগের সময় নিয়োগ প্রাপ্ত ও জকিগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা। এখনো ফ্যাসিবাদে সম্পৃক্ত অনেকে চোরাচালান ব্যবসায়ী,  চিহ্নিত অপরাধী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। খোলস পাল্টানোর অভিনয় করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।


সম্প্রতি কয়েকজন পুলিশ সদস্যের উগ্র আচরণে তাদের আওয়ামী পরিচয় প্রকাশ পায়। পুলিশ লীগের সদস্যের ন্যায় তারা আসামী ধরার নামে নিরীহ এক পরিবারে রীতিমত তাণ্ডব চালায়।


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাবে না বা ক্রূর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাবে না। গ্রেফতারের সময় বা হেফাজতে মারধর করা এই সাংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।


অথচ যারা আইন প্রয়োগ করার কথা তারাই আইন মানছেন না, বরং উল্টো চলছেন। গত ৩১ মে রাত প্রায় সাড়ে ৩ টায় জকিগঞ্জ থানাধীন নিয়াগুল এলাকায় একটি আপোষকৃত মামলায় একজন বয়োবৃদ্ধকে আটক করতে যান সাদা পোষকে আটক করতে যান জকিগঞ্জ থানায় কর্মরত অপু, মিরাজসহ ৩ জন এসআই ও ১০/১২ জনের পুলিশ সদস্য।


বাড়িতে অভিযানে গিয়ে ঘরে দরজায় লাতি মারতে থাকেন এসআই অপু আর অশালীনভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এসআই মিরাজ। তাদের ভয়ংকর আচরণে ভয়ে আতঙ্কিত হন নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা।

 

এক পর্যায় দরজা খোলে দিয়ে ঘরে থাকা বৃদ্ধের বড় ছেলে আশফাকুর রহমান রেদওয়ান 

পুলিশের এমন আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে তিন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় কিল ঘুষি মারতে থাকেন এসআই অপু ও মিরাজ। সেই এই দৃশ্য তার ভাগ্নি মোবাইল ফোনে ধারণ করলে তাকেও চড় থাপ্পর মারেন এসআই মিরাজ।


এমনকি কোনো নারী পুলিশ ছাড়া তাকে লাঞ্ছিত করে তার কাছ থেকে সেই মোবাইলটি জোরপূর্বক কেড়ে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।


সেদিন পুলিশ কর্তৃক আহত হওয়া রেদওয়ান এই প্রতিবেদক কে বলেন- আমরা সিলেট শহরে থাকি, ঈদের ছুটিছে গ্রামের বাড়িতে আসছি। শুনেছি কিছুদিন আগে আমাদের পাশের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। আমাদের ওপর ত কোনো মামলা নেই, এতরাতে পুলিশ কেন আসবে? তাছাড়া পুলিশের আগ্র আচরণে দরজা খুলতে ভয় পাই। 


এক পর্যায়ে যখন আমি দরজা খুলি তখন তারা আমাকে দেরিতে দরজা খুলার অপরাধে মারধর করে আমার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। আমার ভাগ্নির মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। গভীর রাতে পুলিশের ভয়ংকর আচরণে পরিবারের সবাই মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। আইনের মানুষের বেআইনি কাজের বিচার চায় রেদওয়ানের পরিবার।

এ বিষয়ে জানতে জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের সরকারি ফোনে কল দিলে কল রিসিভ করেন ওসি (তদন্ত) মো. সুজন মিয়া। ওসি স্যার ছুটিতে আছেন, এক সপ্তাহ পর আসবেন জানিয়ে বলেন, ওই ঘটনার সময় তিনিও ছুটিতে থাকায় সে বিষয়ে কিছু জনেন না বলে জানান।


No comments:

Post a Comment

Pages