সময় ডেস্ক : শুরুর ধাক্কার পর নাজমুল হোসেন শান্ত আর তানজিদ হাসান তামিমের ফিফটিতে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। অসময়ে তাদের বিদায়ের পর হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলের চাপ উড়িয়ে করেন আগ্রাসী ব্যাটিং। ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস খেলে দলকে এনে দেন চ্যালেঞ্জিং পুঁজি।
মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২৮৪ রান করেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে ৭০ বলে সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেছেন মোসাদ্দেক। শান্ত ৬৭ আর তানজিদ করেন ৫৪ রান।
দলের চাপে তাওহিদ হৃদয়, তানভির ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে তিনটা জুটি পান মোসাদ্দেক। তিন জুটিতেই তিনি ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়। প্রতি আক্রমণে অজি বোলারদের চেপে বসতে না দিয়ে স্বস্তির ঠিকানা খুঁজেছেন সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দারুণ ছন্দে থাকা ব্যাটার।
টস হেরে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো ছিলো না। ন্যাথান এলিসের হালকা মুভ করে বেরিয়ে যাওয়া বলে ফ্লিক করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন সাইফ হাসান। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্যাচ লুফেন মারনাশ লাবুশানে।
তবে খানিক পর তিনিই ফেলে দেন সহজ ক্যাচ। ৯ রানে থাকা শান্তকেও স্লিপে ক্যাচ বানিয়েছিলেন এলিস। সেটা মুঠোয় জমাতে পারেননি লাবুশানে।
জীবন পাওয়া শান্ত এরপর জমে যান ক্রিজে। তানজিদের সঙ্গে জমে যায় তাঁর জুটি। দারুণ গতিতে রান বাড়াতে থাকেন তাঁরা। দ্বিতীয় উইকেটে ৯১ বলে ৯৬ রানের জুটি ভাঙেন এলিস। নতুন স্পেলে ফিরে স্লোয়ার দিয়ে কাবু করেন তানজিদকে। বাংলাদেশের ওপেনার ৭ চার, ১ ছক্কার ইনিংস থামান ৫৪ করে।
চারে নেমে লিটন দাস হাঁসফাঁস করছিলেন। বাউন্ডারি বের করতে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে থিতু হতে পারেননি। অনিয়মিত স্পিনার ম্যাট রেনশকে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।
খানিক পর শান্তকেও ছাঁটেন রেনশ। এই স্পিনারের বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ছন্দে থাকা বাঁহাতি ব্যাটার।
সাড়ে তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক নেমেই দেখান আগ্রাসন, সাবলীল ব্যাট চালিয়ে রানের চাকায় গতি আনেন তিনি। দ্রুত থিতু হয়েই ফিরতে পারতেন। রেনশর বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন। লং অনে সহজতম ক্যাচ ফেলে দেন কুপার কনলি। ২১ রানে জীবন পেয়ে মোসাদ্দেক টেনে নেন দলকে। পাঁচে নেমে ধুঁকতে থাকা তাওহিদ হৃদয়ের আড়ষ্টতার বিপরীতে দলের রান বাড়ান তিনি।
পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৯০ বলে আসে ৭৫ রান। যাতে ৪৯ রানই মোসাদ্দেকের। জেভিয়ের বার্টলেটের বলে পরে ৫১ বলে ৩১ করে ফেরেন হৃদয়।
অধিনায়ক মিরাজ নেমে তাল পাননি। ১২ বল খুইয়ে স্রেফ ৩ রান করে এলবিডব্লিউতে বিদায় র। দল চাপে পড়ার পর স্লগ ওভারেও ভরসা হন মোসাদ্দেক। অ্যাডাম জাম্পাকে রিভার্স সুইপে দুই চার, এক ছয়ে উড়িয়ে রানরেট ঠিক করেন।
তানভির ইসলাম তেমন সঙ্গ দিতে না পারলেও তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৮ম উইকেটে মাত্র ৩২ বলে মহা গুরুত্বপূর্ণ ৪৫ রান যোগ করেন তিনি।

No comments:
Post a Comment