সময় ডেস্ক : মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা কুখ্যাত 'মিং' পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। হত্যা, অপহরণ, অনলাইন প্রতারণা এবং অবৈধ জুয়ার সিন্ডিকেট পরিচালনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি আদালতের নির্দেশে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি সোমবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সময়কার অনগ্রসর লাউক্কাইং শহরকে ক্যাসিনো, যৌনপল্লী এবং অনলাইন স্ক্যামের কেন্দ্রে পরিণত করেছিল এই প্রভাবশালী মিং পরিবার। তবে ২০২৩ সালে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হলে এই পরিবারের একাধিপত্যের পতন ঘটে। বিদ্রোহী মিলিশিয়ারা ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মিং পরিবারের সদস্যদের আটক করে চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে সোপর্দ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিং পরিবারের ওপর এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সীমান্ত অঞ্চলের প্রতারক চক্রগুলোকে একটি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিতে চেয়েছে বেইজিং। চীনের এমন অনমনীয় অবস্থানের কারণে অনেক অপরাধী চক্র এখন তাদের আস্তানা সরিয়ে মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্ত কিংবা কম্বোডিয়া ও লাওসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার মানুষকে পাচার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশই চীনা নাগরিক। এই বিশাল প্রতারণা চক্রের কারণে চীনারা এ পর্যন্ত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।
উল্লেখ্য, কেবল মিং পরিবারই নয়, গত নভেম্বরে 'বাই' পরিবারের ৫ সদস্যকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চীন। এছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা ওয়েই ও লিউ পরিবারের সদস্যদের বিচারকাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

No comments:
Post a Comment