৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানের দুবাই-সিলেট ফ্লাইটে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকা প্রবাসী বোরহান উদ্দিন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়- গত ৫ ডিসেম্বর গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দির গাও ইউনিয়নের আংগারজুর গ্রামের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন আমেরিকা থেকে স্বপরিবারে এমিরেটস এয়ারলাইন্স এ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুবাই যাত্রা বিরতির পর বাংলাদেশ বিমানের ২৪৮ নম্বর ফ্লাইটে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা।
বিমান আকাশে উড্ডয়নের পর বিমানের জনৈক কেবিন ক্রু জগ ভর্তি গরম পানি নিয়ে যাত্রী সেবায় নিয়োজিত হন। এ সময় অসাবধানতার কারণে পুরো জগ ভর্তি গরম পানি বোরহান উদ্দিনের মেয়ে সেহরিস সুবহানা আরোস এর উপর পড়ে যায়।
সাথে সাথে মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থান জ্বলসে যায়। এ সময় বোরহান উদ্দিন এবং বিমানের অন্যান্য যাত্রীরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিমান কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে এবং তার মেয়ের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে বলে জানায়।
কিন্তু সিলেটে বিমান ল্যান্ডিং করার পর বিমান কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার চিকিৎসা তো দূরের কথা একটি অ্যাম্বুলেন্সও জোগাড় করে দিতে এগিয়ে আসেনি। বিমানের কয়েকজন কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিনকে বলেন, তার মেয়েকে যেন ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের কথা মত মেয়েটিকে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বিমানের কেউ আর খোঁজ নিতে আসেনি।
বোরহান উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বিমানের অভ্যন্তরে মান্দাতার আমলের স্টিলের জগ দিয়ে গরম পানি সরবরাহ করে বিমানের ক্রুরা, বর্তমান সময়ের সাথে কোনভাবেই যায় না। বিমান কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে বাংলাদেশ বিমানের আজ এই বেহাল দশা। প্রবাসীরা এ কারণেই সব সময় বাংলাদেশ বিমানকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।
তিনি তার মেয়ের সু চিকিৎসা নিশ্চিত এবং চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বিমান কর্তৃপক্ষকে বহন করার দাবি জানান।
বিমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের জন্য সিলেট অফিসের একাধিক ফোন নাম্বারে কল দেয়া হলে কোনো কর্মকর্তা কল ধরেন নি।

No comments:
Post a Comment