দুদকের ভেতরও দুর্নীতি রয়েছে : সিলেটে দুদক চেয়ারম্যান - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Sunday, 23 November 2025

দুদকের ভেতরও দুর্নীতি রয়েছে : সিলেটে দুদক চেয়ারম্যান


সময় ডেস্ক :
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, শুধু দীর্ঘসূত্রতাই নয়, দুদকের ভেতরও দুর্নীতি রয়েছে।


রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে সিলেটের রিকাবীবাজারের কবি নজরুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দুদকের গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন।


দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় সকাল ১০টা থেকে গণশুনানি শুরু হয়। এতে ৭৩টি অভিযোগ উত্থাপন ও শুনানি হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অভিযুক্ত কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন।


গণশুনানি শেষে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘যাঁরা সেবাদাতা- তাঁরা মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ আছে। আমরা নিয়মিত রেইড করছি, কিছুটা উপকারও হচ্ছে।’


সিলেটের সাদাপাথর লুট কাণ্ডে রাজনীতিবিদদের নাম আসা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সাদাপাথর সেখানে ছিল না- এটা সত্য। পরে তা ফিরে এসেছে- এটাও সত্য। এখানে কারা জড়িত, তা আপনারা আমাদের চেয়ে বেশি জানেন। এখন প্রশ্ন হলো- তাঁদের কি আপনারা পার্লামেন্টে চান?’



এর আগে তিনি দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে দুদকের বিভাগীয় কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীদের বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। বিদেশি সম্পদ গোপন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


দুদকের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুদকে অনেক সহকর্মী দুর্নীতির তথ্য চাপা দেন, যা গণমাধ্যম করে না। দুদক বিচারকারী নয়, বরং মামলার তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করাই তাদের দায়িত্ব।’


এসময় তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে কৃষি সম্পত্তি দেখিয়েছিলেন ৫ দশমিক ২১ একর; দুদকের অনুসন্ধানে পরে ২৯ একর সম্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়। তদন্ত হলেও তখন ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।’


গণশুনানিতে একজন অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ দাস জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কর্মচারী তাঁর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিলেও চাকরি দেননি, টাকাও ফেরত দেননি। অভিযোগ শুনে দুদক চেয়ারম্যান অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্ত চালানোর নির্দেশনা দেন।


এ ছাড়া হাসপাতালের ১৫ টাকার টিকিট ২০ টাকা নেওয়া, টাকা ছাড়া শয্যা না দেওয়া, পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ ছাড়া পাসপোর্ট না পাওয়া, কম্পোজ দোকানগুলোতে ঘুষ লেনদেন, জালালাবাদ গ্যাসের সংযোগে অনিয়ম-এসব অভিযোগও শুনানিতে উত্থাপন হয়, এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।


গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন- সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা–উন–নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মু. মাসুদ রানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


No comments:

Post a Comment

Pages