শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরের চৌহাট্টা পয়েন্ট সংলগ্ন আলপাইন রেস্টুরেন্টের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. শহীদ আহমদ চৌধুরী নগরের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি ১নং রোড এলাকার অনাবিল ২১ নং বাসার বাসিন্দা। তিনি পেশায় উবার চালক ছিলেন। নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজি: নাম্বার সিলেট হ-১১-১৪৯৪ এবং ঘাতক ট্রাকের রেজি: নাম্বার ঢাকা মেট্রো ট-১২-১৯৪৯।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যস্ততম নগরে বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে হেলমেট পরিহিত শহীদ আহমদের মাথার খুলি ফেটে মগজ রাস্তায় ছিটকে পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে চাল বুঝাই দৈত্যাকার ট্রাকটি আটক করেন। তবে চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়।
উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভে কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলা নগরীতে ট্রাক চলাচল বন্দ থাকার পরও কিভাবে নগরে দানবীয় ট্রাক প্রবেশ করে প্রশ্ন রেখে উত্তেজিত জনতা ট্রাফিকপুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
একটি সূত্র নিশ্চিত করে সিলেট নগরীর প্রবেশদ্বার হুমায়ূন রশিদ চত্বর হয়ে চাল বুঝাই বৃহৎ ট্রাকটি নগরীতে প্রবেশ করে। ওই এলাকাটি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন টিআই মোশারফ। রাত ৮টার আগে নগরীতে সব ধরণের ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও টাকার বিনিময়ে মোশারফের সংকেতে নিষিদ্ধ সময়ে নগরীতে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে- এমন খবর কিছুদিন আগেও স্থানীয় প্রিন্ট পত্রিকা ও একাধিক অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়। ট্রাক চলাচলের নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে মানা হলে হয়তো উবার চালকের মৃত্যু হতনা, এমনটি মনে করেন নিহতের পরিবার।
নিহতের স্বজনরা লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়া নিয়ে যেতে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি জিয়াউল হকের সাথে দেখা করেন। রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা থানায় অবস্থান করছিলেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন ট্রাফিকের ডিসি উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকারি মালামাল পরিবহন করার কথা বলায় দায়িত্বরত সার্জেন ট্রাক নগরে প্রবেশ করতে দেয়। তারপরও কোথাও কারো গাফিলতি হওয়ার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, দুর্ঘটনার সময় পাশেই চৌহাট্টা এলাকায় অবস্থান করছিলাম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ বিভৎস অবস্থায় দেখতে পাই। ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পরিবার লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়া নিয়ে যেতে চাইলে লিখিত আবেদন দিতে বলেছি।

No comments:
Post a Comment