সিলেটে ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড়, নিরাপত্তায় ৫'শতাধিক পুলিশ - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Thursday, 27 March 2025

সিলেটে ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড়, নিরাপত্তায় ৫'শতাধিক পুলিশ


জাবেদ এমরান :
দুয়ারে কড়া নাড়ছে মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎস ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে সিলেটে জমে ওঠেছে ঈদের কেনাকাটা। দিনের চেয়ে রাতে ক্রেতা বেশি থাকায় ভোররাত পর্যন্ত শপিংমল ও ফ্যাশন হাউসগুলোর শোরুমে ক্রেতাদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। ক্রেতা আকৃষ্টের জন্য শপিংমলগুলোতে করা হয়েছে নান্দনিক আলোকসজ্জা। কোথাও ডিসকাউন্ট ও লটারির ব্যবস্থা করেছেন ব্যবসায়ীরা। নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে নিরাপত্তা জোরদারে নগরজুড়ে কয়েক স্তরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচশতাধিক সদস্য দিনেরাতে কাজ করছে।


সরজমিন নগর ঘুরে দেখা যায়, সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রা জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, কাকলী শপিং সেন্টার, ওয়েস্ট ওয়াল্ড শপিং সেন্টার, মেলেনিয়াম শপিং সিটি, কানিজ প্লাজা, সিটি সেন্টার, আল-হামরা শপিং সেন্টার, কাজী ম্যানশন, শ্যামলী মার্কেট, লতিফ ম্যানশন, লন্ডন ম্যানশন, মিতালী ম্যানশন, সিলেট প্লাজা, শুকরিয়া মার্কেট, 

আহমদ ম্যানশন, মধুবন সুপার মার্কেট, হাসান মার্কেট, করিম উল্লাহ মার্কেট, লালদিঘী হকার মার্কেটে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে কেউবা নিঃসঙ্গ কেনাকাটা করছেন। 


তবে দ্বিতীয় লন্ডনখ্যাত সিলেটের উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন নগরীর অভিজাত শপিংমল হিসেবে পরিচিত নগরীর নয়াসড়ক, কুমারপাড়া,

জেলরোড ও বারুতখানার ফ্যাশন হাউসগুলোর শোরুম থেকে। ওইসব এলাকায় দেশবিদেশের নামিদামি ব্যান্ডের শোরুম রয়েছে।



নগরীর প্রতিটি মার্কেট ও ফ্যাশন হাউসগুলোর শোরুমে ক্রেতাদের ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। যেন নিশ্বাস ফেলার সময় পাচ্ছে না দোকান মালিক থেকে শুরু করে কর্মচারী পর্যন্ত। চাঁদরাতের পর তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবেন বলে জানিয়েছেন।


গত বছর বাজার মাত করা সারারা, গারারার পাশাপাশি এবার মার্কেট কাপাচ্ছে ভাইরাল ড্রেস। রয়েছে চায়না, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি ও ফার্সি ডিজাইনের বাহারি পোশাক। দেশিও পোশাকও প্রতিযোগীর বাজারে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। বাঙালি নারীদের পছন্দের শীর্ষে সূতি, টাঙ্গাইল শাড়ি। দেশি তাঁতে বোনা শাড়ি, জামদানি প্রিন্টের হাফ সিল্ক শাড়ি। এসব শাড়ি হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকায় মান বেধে তারও অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি সিল্ক, মসলিন বা জর্জেটের শাড়িতে এমব্রয়ডারি, কাটওয়ার্ক, পুঁতি ও জরির কাজ করা শাড়িগুলো দেড় হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হয়।


ঈদের কেনাকাটায় মেয়েদের পছন্দ কাপ্তাই, ওয়ান পিস, টু পিস, সালোয়ার-কামিজ, রেডি-আনরেডি থ্রি-পিস, বোরকা, কুর্তি ও লেহেঙ্গা। ছেলেদের শার্ট, টি-শার্ট, ড্রপ শোলডার, গেঞ্জি, ফতুয়া, জিন্স, গেবার্ডিং, ব্যাগি পেন্ট ও মোবাইল প্যান্ট, পাজামা-পাঞ্জাবি, কটি এবং টুপি। কাপড়ের মান অনুযায়ী সর্বনিম্ন পাঁচ শত টাকা থেকে সর্বোচ্চ এসব পোশাক লাখ টাকা দাম। ঈদের কেনাকাটায় বড়দের পোশাকের দামের সমান ছোটদের কাপড়। ঈদের আনন্দ মূলত বাচ্চাদের ঘিরে কম্ব ড্রেস। বাজারের সব কিছু ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় অনেকে অর্থ সংকটে থাকায় নিজেরা কিছু না কিনলেও প্রিয় সন্তানের জন্য সাধ্যমত কেনাকাটা করেন। জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারি, টুপি, আতরের দোকানেও ক্রেতাদের ভির চোখে পড়ার মত।


শহরতলীর লামাকাজীর বাসিন্দা ওমান প্রবাসী ফয়েজ আহমদ জানান, পরিবার নিয়ে শপিং করতে শহরে এসেছি। সবকিছু দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি। তবে বাচ্চদের কাপড় ও জুতার দাম অত্যধিক বেশি। সরকারের নিয়মিত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।


স্কুল শিক্ষক ফরহাদুজ্জামান আক্ষেপ নিয়ে বলেন, বর্তমান ঊর্ধ্বগতির বাজারে সীমিত আয়ের মানুষদের কেনাকাটা করা অত্যান্ত কষ্টসাধ্য। দিনদিন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, অতীতে মনখোলে পছন্দমত কেনাকাটা করলেও বর্তমান সেটা এখন স্বপ্ন। টানাপোড়নের মধ্যে কোনোমতে দিন পার করছি তাতে আলহামদুলিল্লাহ্।


মধুবন সুপার মার্কেটের এস আর শাড়ি এন্ড ড্রেসের ম্যানেজার জুবের আহমদ বলেন, এবছর ভাইরাল ড্রেস ছাড়া সত্যি বলতে নতুন নামে কোনো পোশাক বাজারে আসেনি। আমরা দোকানিরা কাস্টমারদের আলোচিত যে কোনো নাম বলে দেই। আবার কেউ নাম বললে ওই নামে পোশাক চালিয়ে দেই, অনেক কাস্টমার কিনেও নেন। সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান।


নয়াসড়কের অভিজাত শোরুম চন্দ্রবিন্দু'র প্রধান সেলম্যান শাহ আলম ইমন জানান, এবছর আমাদের শোরুমের প্রধান আকর্ষণ পাকিস্তানি সুইটস। তাছাড়াও লাক্সারী ফ্যাশন, ট্রেডিশনাল স্টাইল ও ফ্যাসটিভেশন ফ্যশন ড্রেস অত্যাদিক সেইল হয়।


নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, জনসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে ঈদের মার্কেটিং করতে পারে সে জন্য নগরজুড়ে ২৮টি মোবাইল টিম, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশসহ পাঁচশতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিকপুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।


No comments:

Post a Comment

Pages