সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০তে জিতে নিয়েছে আইরিশরা। ১২৪ রানের লক্ষ্য তারা পেরিয়ে যায় ১ বল হাতে রেখে। মিরপুরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। সফরকারী আয়ারল্যান্ডের জন্য এটি মধুর প্রতিশোধ। নিজেদের অবিশ্বাস্য ভুলে এদিন জয় হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। ৫ বলে আয়ারল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান।
স্বর্ণা আক্তারের ফুলটসে টাইমিং গড়বড় করে লং অফে ক্যাচ দিয়েছিলেন লরা ডেনলি। কিন্তু সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি রিতু মনি। উল্টো ২ রান পেয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। জীবন পেয়ে পরের ২ বলে ৪ হাকান ডেনলি। ২ বলে যখন ৪ রান দরকার তখন আবারও টাইমিংয়ে গড়বড় করে লং অফে ক্যাচ তোলেন ডেনলি। এবার বলের ফ্লাইট বুঝতে পারেননি জান্নাতুল ফেরদৌস। উল্টো বল পেরিয়ে যায় বাউন্ডারি লাইন। ক্যাচের সাথে ম্যাচও বেরিয়ে যায় বাংলাদেশের মুঠো থেকে। ম্যাচ হারে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের দায়ও কম নয়। দেড়শর্ধো সংগ্রহের ভিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ শেষ ৩৯ বলে তুলতে পারে স্রেফ ১৯ রান।
এসময় তারা উইকেট হারায় ৬টি। টসে হেরে ব্যাটে নেমে চতুর্থ ওভারে দলীয় ৩৩ রানে মুর্শিদা খাতুনকে হারায় বাংলাদেশ। তার সংগ্রহ ১২ বলে ১২ রান। এরপর দারুণ জুটি গড়েন আরেক ওপেনার সোবহানা মোস্তারি ও শারমিন আক্তার। দারুণ ছন্দে থাকা শারমিনের বিদায়ে ভাঙে ৭১ রানের জুটি। ৩৩ বলে ৩৪ রান করে ফেরেন শারমিন। আর বাংলাদেশের ধ্বসের শুরু এখানেই। এক ওভার পর সোবহানা বিদায় নেন ৪৩ বলে ৪৫ রান করে। বাকিদের কেউই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। এসময় সবচেয়ে বড় ধ্বস নামান ওরলা প্রেন্ডারগোস্ট।
নিজের শেষ ২ ওভারে একাই ৪ উইকেট নেন তিনি। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ২২ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। টুর্নামেন্ট জুড়েই আলো ছড়ান এই অলরাউন্ডার। ৫৪ রান ও ১০ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরাও হন প্রেন্ডারগাস্ট। তবে ৩১ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের কল্যাণে আইরিশদের এদিনের জয়ের নায়ক ডেনলিই। আইরিশদের রান তাড়ার শুরুটাও ছিল দারুণ। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৭ রান তোলে এমি হান্টার ও গ্যাবি লুইস। ২৪ বলে ২৮ রান করে হান্টারের বিদায়ে ভাঙে ৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। পরের ওভারে আইরিশ অধিনায়ক গ্যাবি লুইসকে বিদায় করেন লেগ স্পিনার রাবেয়া খাঁন।
এরপর রান আটকে ও দ্রুত আরও উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ঝড় তোলা লিয়া পল এবার শূন্যতেই রান আউট হন মুর্শিদা খাতুনের থ্রোয়ে। আইরিশদের বড় ভরসা ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট ১১ রান করে সীমানায় ধরা পড়েন রাবেয়ার বলে। ১৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ডেলানি ও রেবেকা স্টোকেল সেখান থেকে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন কিছুটা। তবে রান রেটের চাপ বাড়ছিলই। দুই ওভারে যখন প্রয়োজন ২১ রান। নাহিদার বলে বোল্ড হয়ে যান স্টোকেল। ১৯ রান করতে ২২ বল খেলেন তিনি। নাহিদার ওই ওভার থেকে আসে কেবল ৬ রান। বাংলাদেশ তখন প্রবলভাবেই ফেভারিট। কিন্তু শেষ ওভারে ডেলানির দারুণ ব্যাটিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিংয়ে কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে জয়ের উৎসবে মাতে আইরিশরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ-
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৩/৭ (সোবহানা ৪৫, মুর্শিদা ১২, শারমিাহিদান ৩৪, নিগার ৮, স্বর্ণা ৪, রিতু ০, রাবেয়া ৩*, নাহিদা ১, জান্নাতুল ১*; সারজেন্ট ৪-০-২১-০, প্রেন্ডারগাস্ট ৪-০-২২-৪, ডালজেল ২-০-২৩-০, কেলি ৪-০-১৮-০, ডেলানি ২-০-১৬-০, ম্যাগুইয়ের ৪-০-২৫-২)।
আয়ারল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১২৪/৬ (হান্টার ২৮, লুইস ২১, প্রেন্ডারগাস্ট ১১, পল ০, ডেলানি ৩৬*, স্টোকেল ১৯, কেলি ২, রেইলি ০*; জাহানারা ২-০-১৬-০, মেঘলা ৪-০-২১-০, নাহিদা ৪-০-২৬-১, রাবেয়া ৪-০-১৭-২, জান্নাতুল ৩-০-১৯-১, ফাহিমা ২.৫-০-২৪-০)।
ফল: আয়ারল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে আয়ারল্যান্ড ৩-০ তে জয়ী।
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: লরা ডেলানি।
প্লেয়ার অব দা সিরিজ: ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট।


No comments:
Post a Comment