সারজিস-হাসনাত টোকাই, রংপুরে তাদের ঢুকতে দেয়া হবে না : মোস্তফা - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Monday, 14 October 2024

সারজিস-হাসনাত টোকাই, রংপুরে তাদের ঢুকতে দেয়া হবে না : মোস্তফা


সময় ডেস্ক :
সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহকে টোকাই আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সেই সাথে জাতীয় পার্টি নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে রংপুরে প্রবেশ করতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি ।


সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে রংপুরে দলীয় কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির যৌথকর্মী সভায় সভাপতির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন তিনি।


এ সময় তাদেরকে ‘টোকাই’ হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি। এছাড়া তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শহীদের সংখ্যা দাবিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সুফল নিজের ঘরে নেয়ার অশুভ পরিকল্পনা বলেও দাবি করেছেন তিনি।


তাহলে জাতীয় পার্টির থেকে খারাপ দল আর বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল হবে না। বাংলাদেশের কোথায় কি হবে জানি না, রংপুর আমাদের অস্তিত্ব, সেই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মোস্তফার বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হয়, তাতেও আমি রাজি। তবুও রাজপথ ছাড়ব না।’


শহীদের সংখ্যায় বিএনপির সংখ্যা ঘোষণা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে মোস্তফা বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। তাদের (রংপুরে বিএনপির) রাজনীতি ছিল গ্রান্ড হোটেল মোড়। ওই মোড় থেকে তারা বের হতে পারে নাই। আজকে ফখরুল সাহেব হিসাব দেন। যে ৮৭০ জন মারাগেছে তারমধ্যে ৪২২ জনই তাদের। আপনার মতো দায়িত্ত্বশীল বিএনপির মহাসচিবের কাছ থেকে এ ধরণের কথা আমি আশা করি নাই। আপনি ভাগ করতে চাচ্ছেন বিএনপির অংশ সবচেয়ে বেশি। আর কেউ মারা যায়নি। আপনারা হিসেবে করে দেখেন প্রায় দুই হাজার লোক মারা গেছে। তারমধ্যে কয়জন ছাত্র মারা গেছে। আর কয়জন দলীয় কর্মী মারা গেছে। সেটা আপনারা ভালো করেই জানেন।’


মোস্তফা বলেন, ‘বিএনপি বলে এখানে রংপুরে নাকি পাঁচজন বিএনপির কর্মী মারা গেছেন। আমি জানি একজন বিএনপির কর্মীও রংপুরে মারা যায়নি। এখানে সাধারণ মানুষ মারা গেছে। এখানে কলা ব্যবসায়ী, ফল ব্যাবসায়ী মারা গেছে। আমাদের নেতা জেলা ছাত্রসমাজের সভাপতি আমিনুলের চাচা মিলন মারা গেছে। ৪২২ জনের হিসাব কোথায় পেলেন ভাই। আন্দোলনকে বিতর্কিত করে নিজের ঘরে ফলটা তুলতে চাচ্ছেন। এ ধরণের অশুভ চিন্তভাবনা থেকে আপনারা বেরিয়ে আসুন।’


মোস্তফা বলেন, ‘আন্দোলনে সবার অংশগ্রহণ ছিল। সবাই মিলে ফ্যাসিস্ট বিদায় করেছি। আপনারা তো পল্টনে এক লাখ লোকের সমাবেশ করেছেন। ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ আপনাদের সমাবেশে ভেঙে দিয়েছে। একটা লোকও তো সেদিন মারা যায়নি। কাজেই এসব ভ্রান্ত কথাবার্তা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তি করার যে চেষ্টা করতেছেন এটা শুভ হবে না। আন্দোলনের পর যত চাঁদাবাজি হয়েছে। যত ঘটনা ঘটেছে। যত টার্মিনাল দখল হয়েছে। সবজায়গাতে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন। আপনারা দেখান জাতীয় পার্টির কোন ছেলে কোথাও চাঁদাবাজি করেছে। মাস্তানি করেছে। এটা জাতীয় পার্টি করে না।’


মোস্তফা তার বক্তব্যে উপস্থিত দলের চেয়ারম্যানকে সারাদেশে সাংগঠনিক কর্মসূচি দেয়ার আহ্বান জানান।


পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা আর বাংলাদেশে একদলীয় শাসন, ফ্যাসিবাদ এবং সবদলকে বাদ দিয়ে একদলীয় নির্বাচন ব্যবস্থা গ্রহণ করব না, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দিব।


জি এম কাদের বলেন, ‘আমরাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সবকিছু দিয়ে সহযোগিতা করেছি। সংসদে কথা বলেছি। আামাদেরকে আওয়ামী লীগের দোসর প্রচারণা দিয়ে সংলাপে ডাকা হচ্ছে না। এটা ঠিক নয়। আমাদেরকে দুটি দল অস্থির করে রেখেছিল।


তিনি বলেন, আগামী দিনে আন্দোলনের যে ডাক আসবে তাতে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে। তাদের দলে রাখা যাবে না।


সূত্র : নয়া দিগন্ত।


No comments:

Post a Comment

Pages