সময় ডেস্ক : ঘণ্টায় ২০৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি আর প্রবল জলোচ্ছ্বাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সিয়েস্টা কীতে আছড়ে পড়েছে ‘ভয়াল’ হারিকেন মিল্টন। ঝড়ের তাণ্ডবে ফ্লোরিডায় ৩০ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হারিকেন মিল্টনের প্রভাবে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেন্ট লুসি কাউন্টিতে হতাহতের খবরও এসেছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস ‘নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার সময় পেরিয়ে গেছে’ বলে সতর্ক করার পরপরই হারিকেন মিল্টন উপকূলে আঘাত হানে। তার আগে বুধবার লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে উপকূল অতিক্রম করার সময় মিল্টন ছিল তিন মাত্রার হারিকেন। উপকূলে উঠে আসার পর বৃষ্টি ঝরাতে ঝরাতে তা দুই মাত্রার হারিকেনে পরিণত হয়। মাত্রা কমলেও এ ঝড় এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। প্রবল বৃষ্টি ঝরানোর কারণে বিভিন্ন স্থানে হড়কা বান আর জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পরে বলেও সতর্ক করেছে হারিকেন সেন্টার। ফ্লোরিডার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অরল্যান্ডো এবং পূর্ব উপকূলের ডেটোনা বিচ শহরের আশপাশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে ফ্লোরিডার মধ্যভাগের পুরো এলাকাজুড়ে।
জাতীয় আবহাওয়া সার্ভিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যার সতর্কতার অর্থ একটি বন্যা ‘আসন্ন বা ঘটছে’ এবং লোকজনের অবিলম্বে উঁচু স্থানে সরে যাওয়া উচিত। আকস্মিক বন্যা আঘাত হানতে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা সময় নিতে পারে। এমনকি ওই সময়ে বৃষ্টি না হওয়া এলাকাগুলোতেও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। ফ্লোরিডার পূর্ব উপকূলের সেন্ট লুসি কাউন্টির শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ওই এলাকায় ঝড়ের মধ্যে একাধিক মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা বা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য শেরিফ অফিস তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পরেনি।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, এটি ‘শতাব্দীর অন্যতম ধ্বংসাত্মক হারিকেন’ হতে যাচ্ছে এবং সরকার সেভাবে তা মোকাবেলার চেষ্টা করছে। মিল্টন আঘাত হানার মাত্র দিন দশেক আগে হারিকেন হেলনের তাণ্ডব দেখেছে ফ্লোরিডা। সেপ্টেম্বরের শেষে ওই ঝড়ে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেনেসি, ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় অন্তত ২২৫ জনের প্রাণ গেছে। প্রবল জলোচ্ছ্বাস নিয়ে ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়েছে হারিকেন মিল্টন তৃতীয় ক্যাটাগরির হারিকেন হিসেবে এটি আঘাত হানে।

No comments:
Post a Comment