সিলেটে নবনিযুক্ত ডিসি এনামুল আওয়ামী পন্থি হওয়ায় একদিনের মাথায় বদলি - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Tuesday, 10 September 2024

সিলেটে নবনিযুক্ত ডিসি এনামুল আওয়ামী পন্থি হওয়ায় একদিনের মাথায় বদলি


সময় ডেস্ক :
আওয়ামী লীগ পন্থি হওয়ায় নিয়োগের একদিনের মাথায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পি কে এম এনামুল করিমের নিয়োগ বাতিল করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ।


মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


এনামুল করিমের নিয়োগ বাতিল প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৯ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে পি কে এম এনামুল করিমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়োগ/বদলি আদেশে তার জন্য প্রযোজ্য অংশটুকু এতদ্বারা বাতিল করা হলো।


জনা যায়, সোমবার ৩৪ জেলায় জেলা প্রশাসক দেওয়ার পর প্রজ্ঞাপনে নিজেদের নাম দেখতে না পেয়ে ২৪, ২৫ ও ২৭ ব্যাচের এক দল উপসচিব বিক্ষুব্ধ হন। কর্মকর্তারা জানান, সোমবার ২৫ জনকে ডিসি পদায়ন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে তিনজন ছিলেন বঞ্চিত কর্মকর্তা। সিলেটের ডিসিসহ বেশির ভাগ ডিসিই হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল। এর মধ্যেই গতকাল দুপুরে আরও ৩৪ জেলায় নতুন ডিসি পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুরে বিসিএস ২৪, ২৫ ও ২৭ ব্যাচের ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা এপিডি অনু বিভাগের দুই কর্মকর্তা ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং কে এম আলী আযমের কক্ষে প্রবেশ করে জানতে চান– কীভাবে এ ধরনের ব্যক্তিদের ডিসি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হলো? এ সময় যুগ্ম সচিব আলী আযম উত্তেজিত হয়ে উঠলে বঞ্চিতরা ক্ষেপে যান। শুরু হয় হইচই, হট্টগোল। এনএসআইর একজন কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ফোন ছিনিয়ে নেন বঞ্চিতরা। এ সময় ওই কর্মকর্তার সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। পরে আলী আযম খবর দিলে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা সেখানে যান।


কর্মকর্তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি তাদের উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে। ডিসি হওয়ার জন্য তাদের প্রত্যাশা ছিল, কারণ তারা চাকরিজীবনে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তারা যুগ্ম সচিবের কাছে জানতে চান, কেন তিনি এককভাবে তালিকা তৈরি করলেন? কেন মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে তালিকা করা হলো না? কীভাবে গত সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট এত বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা ডিসি পদে পদায়ন পেলেন?


জবাবে কে এম আলী আযম বলার চেষ্টা করেন, তিনি প্রস্তাব তৈরি করেননি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও একজন উপদেষ্টার নাম উচ্চারণ করে তিনি বলেন, তারাই সব কিছু চূড়ান্ত করেছেন।


এ পর্যায়ে কর্মকর্তারা তাঁকে বলেন, তাহলে আপনি আমাদের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে চলুন। আপনি তাঁর সামনে বলুন, আপনি কোনো প্রস্তাব দেননি। তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানালে উপসচিবরা বলেন, তারা নিশ্চিত হয়েছেন কে এম আলী আযমই এককভাবে তালিকা তৈরি করেছেন।


বেলা ৩টার দিকে বঞ্চিতরা দুই কর্মকর্তাকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তিনি চলে গেলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কর্মকর্তারা দুই যুগ্ম সচিবকে নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কক্ষে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় আলী আযম টয়লেটে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। প্রায় ২ ঘণ্টা পর সিনিয়র কর্মকর্তারা তাঁকে বের করেন। পরে দুই কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৫টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ‘বঞ্চিতরা’। তারা বঞ্চিতদের দাবির বিষয়টি সরকারকে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।


No comments:

Post a Comment

Pages