সময় ডেস্ক : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মন্দির নির্মাণ করছেন। মন্দিরের গাঁথুনি দেওয়ার একপর্যায়ে যৌক্তিকভাবেই কাজ বন্ধ করতে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের বাধাকে উপেক্ষা করে সনাতন শিক্ষার্থীরা কাজ চলমান রেখেছেন।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দির নির্মাণের উদ্দেশ্যে রড, বালু ও সিমেন্ট আনতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের পেছনে ২৫-৩০ জন সনাতন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মন্দির নির্মাণের গাঁথুনির কাজ করছেন শ্রমিকরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম-কানুন রয়েছে। আইন রয়েছে। কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সেটি নিয়ম অনুযায়ী করতে হবে। কিন্তু মন্দির নির্মাণের জন্য সনাতন শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেয়নি। নিজেদের ইচ্ছেমতো তারা মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে মন্দির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়।
জানা যায়, ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মন্দির নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের পেছনে ৫০ শতক জায়গা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও মন্দির নির্মাণ হয়নি।
মন্দির নির্মাণ কাজে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী শান্তনু বলেন, সামনে কালীপূজাকে কেন্দ্র করে আমাদের এ মন্দির নির্মাণ করা। প্রত্যেক বছর কালীপূজা এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় আমাদেরকে পূজামণ্ডপ তৈরি করতে হয়। এভাবে প্রত্যেক বছর পূজামণ্ডপ তৈরি করতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয়। এখন থেকে যেন অতিরিক্ত অর্থ খরচ না হয় এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিয়মিত প্রার্থনা করতে পারে সেজন্যই এই মণ্ডপ তৈরি করা।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আইনি কাঠামো আছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এরকম কাজ করা যাবে না এবং আমাদের কাজ বন্ধ করতে বলে। কাজ বন্ধের বিষয়ে আমরা প্রশাসন দুঘণ্টা সময় নিয়ে আসছি। সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা তাদের জানাব। তবে সিদ্ধান্ত নেয়া অবধি কাজ চলমান রাখবে বলে জানান উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে সনাতন শিক্ষার্থীরা কেন মন্দির নির্মাণকাজ শুরু করলেন- এমন প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি প্রশাসনিক ও আর্থিক বিভাগে দায়িত্বরত অধ্যাপক ড. সৈয়দ বদিউজ্জামান ফারুক বলেন, প্রশাসনের কাছ থেকে তারা কোনো অনুমতি নেয়নি। অনুমতি না নিয়েই তারা মন্দির নির্মাণকাজ শুরু করে। বিষয়টি জানতে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ডাকা হয়েছে এবং কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। তারা দুই ঘণ্টা সময় নিয়েছে। কিন্তু দুই ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সনাতন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো প্রত্যুত্তর আসেনি। এখন থানা থেকে পুলিশ এসেছে। কাজ বন্ধ না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments:
Post a Comment