সিলেটে জলাবদ্ধতা, সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করছেন নগরবাসী - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Saturday, 7 October 2023

সিলেটে জলাবদ্ধতা, সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করছেন নগরবাসী


জাবেদ এমরান :
বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া লঘুচাপের প্রভাবে অসময়ে ভারী বর্ষণে সিলেট নগরে আবারো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দু'দিনের টানা বৃষ্টিতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতল, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, ফরেন পোস্ট অফিস, মহানগরীর বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে শুক্রবার সন্ধ্যা রাত থেকে পানি ঢুকতে থাকে। সে সময় নগরজুড়ে বন্যার আতঙ্ক বিরাজ করে। জলাবদ্ধতা ক্রমশ বাড়তে থাকায় অনেকে ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন। ব্যবসায়ীরা মালামাল নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে বন্দের দিনে দোকান খুলে মালপত্র অন্যত্র স্থানান্তরণ করেন।


এসময়ে সুরমা নদীর পানি কম থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুততম সময়ে নদীতে গিয়ে পরার কথা। আকস্মিক এমন জলাবদ্ধতার জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করছেন নগরবাসী। তারা মনে করেন সিটি কর্পোরেশন খাল, ছড়া, ড্রেন পরিষ্কার রাখলে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না। 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতল, বাগবাড়ী, এয়ারপোর্ট রোড, শাহজালাল উপশহর, সাদাটিকর, খাসদবীর, শিবগঞ্জ, মেজরটিলা, ইসলামপুর, দরগামহল্লা, কালীঘাট, কানিশাইল, লামাপাড়া, লালা দিঘিরপাড়, মাছুদিঘিরপাড়, বাদামবাগিছা, শাহপরাণ, কুয়ারপাড়, সোবহানীঘাট, যতরপুর, মাছিমপুর, কামালগড়।



দক্ষিণ সুরমার রেলগেইট, রেলস্টেশন, ফরেন পোস্ট অফিস, বঙ্গবীর রোড, বারখলা, ভার্থখলা ও মোমিনখলা, পিরিজপুর সহ নানা এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব এলাকায় কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। যদিও বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় শনিবার দুপুর থেকে পানি কমতে থাকে।


উপশহর এলাকার বাসিন্দা ছাব্বির হোসাইন বলেন- কয়েক ঘন্টা বৃষ্টি হলেই অভিজাত এই এলাকার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পরে। উঁচু উঁচু ভবনের নিচ তলায় হাঁটু পানি, কখনো তার বেশি পানি থাকে। ফলে ওপর তলায় থাকা অন্যান্য বাসিন্দারা অবরুদ্ধ হয়ে পরেন। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে তিনি দায়ী করেন।


ছাতক থেকে ভাইকে নিয়ে চারদিন যাবত সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন মাসুক মিয়া। তিনি বলেন, হঠাৎ করে বৃষ্টির পানি হাসপাতলের নিচ তলায় ঢুকে পরে। নোংরা পানির মধ্যদিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। এক ভোগান্তি ছাড়াতে এসে আরেক ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে তিনি জানান।


সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, অতীতে বৃষ্টি হলে পানি মাটি ধারন করে নিতো। আরবানাইজেশনের কারণে এখন সেই পানি গড়িয়ে নামতে হয়। নগরীর বেশিরভাগ পানি ড্রেন দিয়ে নিষ্কাশন হয়। অল্প বৃষ্টিতে নগরীর বাসা-বাড়িতে পানির ওঠার বিষয়টি নিয়ে আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি। সুরমা নদীর পানি যাতে নগরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য স্লুইস গেট স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ থেকে মৌসুমি বায়ুর শেষ অংশ বিদায় নিতে শুরু করেছে। সে কারনে সে সময়ে বৃষ্টি বেড়ে যায়। আর এর সঙ্গে একটি স্থল লঘুচাপ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্বাঞ্চলের দিকে চলে গেছে। মূলত ওই লঘুচাপের সঙ্গে আসা বিপুল পরিমাণ মেঘের কারণে বেড়ে গেছে বৃষ্টি। তবে এখন থেকে বৃষ্টি ক্রমাগত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

No comments:

Post a Comment

Pages